গোপাল সিং, খোয়াই, ২৪ জুন || খোয়াই শহরে নেশার রমরমা এবং চোরের উপদ্রবে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ, তখন পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে কার্যত প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার খোয়াই থানাধীন সোনাতলা ভবতোষ পাড়ায় ঝুমা দাস নামে এক মহিলা ড্রাগস কারবারিকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এলাকাবাসী। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, পুলিশি ব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়ে জনগণই আইন নিজেদের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মহিলা থানার পুলিশ এবং গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা ছুটে এসে অভিযুক্ত ঝুমা দাসকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের, ধৃত মহিলা নিজেকে বাঁচানোর জন্য মৃদুল দাস ও বিকি দাস নামে দুই কুখ্যাত মাদক কারবারির উপর দায় চাপান। তিনি দাবি করেন, সম্পর্কে তাঁর আত্মীয় ওই দুই ব্যক্তি প্রায় দুই মাস আগে তাঁকে ১০০টি ড্রাগসের কৌটা বিক্রির জন্য দিয়েছিল। ঝুমার মতে, মূল কারবারিদের বাড়ি বাল্লারবের এলাকায়।
অভাবের সংসারের দোহাই দিয়ে ঝুমা জানান, তাঁর শ্বশুর একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করেন এবং শাশুড়ি একটি হাসপাতালে কর্মরত। সন্তানের লেখাপড়ার খরচ জোগাতেই তিনি এই অন্ধকার পথে পা বাড়িয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁর স্বামীও একজন মাদক কারবারি এবং সম্প্রতি তাঁরা নিজেদের গাড়ি বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে এই ব্যবসা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বাড়ছে খোয়াইবাসীর মধ্যে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে খোয়াইবাসী। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ শুধুমাত্র ছোটখাটো নেশাখোরদের ধরে বাহবা কুড়োচ্ছে, কিন্তু মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আসল মাদক কারবারিরা বুক চিতিয়ে তাদের সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
জনগণের দাবি, বর্তমানে মাদক কারবারিদের ধরতে পুলিশের ভূমিকা কার্যত শূন্যের কোঠায়। বরং সাধারণ মানুষই নিজেদের উদ্যোগে ছিঁচকে ডিলার ও নেশাখোরদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে। ঠিক যেমন সোমবার সন্ধ্যায় খোয়াই সুভাষপার্কের কৃষ্ণমন্দিরের সামনে থেকে তিনজন ড্রাগস ডিলারকে হাতেনাতে ধরেছিল আমজনতা।
যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে মনে করছেন শহরবাসী। তাঁদের মতে, খোয়াইতে যেভাবে মাদকের সাম্রাজ্য বাড়ছে, তাতে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
