গোপাল সিং, খোয়াই, ১৭ আগস্ট || শান্তিপূর্ণ কৈলাশহরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার এক ন্যক্কারজনক ষড়যন্ত্র। রবিবার সকালে শহরের টিলা বাজার জামে মসজিদে শূকরের মাংস রেখে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহকুমা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়েই ইরানি থানার পুলিশ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন সকালে মসজিদের ভেতরে লোকচক্ষুর আড়ালে কেউ বা কারা শূকরের মাংস রেখে যায়। বিষয়টি নজরে আসতেই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
ঘটনার চাঞ্চল্য আরও বাড়িয়ে দেয় মাংসের সাথে পাওয়া একটি হাতে লেখা কাগজ। ওই কাগজে উস্কানিমূলকভাবে লেখা ছিল, “আড়াইশো কিংবা ৩০০ বছরের মধ্যে ত্রিপুরাতে মসজিদ নির্মাণ, এর পূর্বে ছিল না। এখন ওগুলো সরান, দেরি না করে গোবিন্দের বাসভূমি চাই।” এই মাংস উদ্ধারের পরেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার একটি ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ত্রিপুরা ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন বিধায়ক মবশ্বর আলী এবং কৈলাশহর জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা গৌরনগর পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস-চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান। তাঁরা গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান মবশ্বর আলী বলেন, “কৈলাশহর এক শান্তিপ্রিয় শহর। উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন তৈরি করার জন্যই এই জঘন্য কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। যে বা যারাই এই ঘটনার পিছনে থাকুক, পুলিশ প্রশাসনকে সঠিক তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।” কংগ্রেস নেতা বদরুজ্জামান বলেন, “কিছুদিন আগেই কনকপুরে মসজিদের দানবাক্স চুরি হয়েছিল, আর এবার এই ঘটনা। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়।” তিনিও প্রশাসনের কাছে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। ইরানি থানার পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে এবং তদন্ত শুরু করেছে। তারা জানিয়েছে, শহরের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর এবং এই ষড়যন্ত্রের পিছনে থাকা অপরাধীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। এই ঘটনায় গোটা কৈলাশহর জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
