ক্যান্সার হাসপাতাল আউটলেটের স্থান নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক: প্রাক্তন বিধায়ক তাপস দে’র পুনর্বিবেচনার আবেদন

গোপাল সিং, খোয়াই, ১৬ সেপ্টেম্বর || রাজধানী আগরতলায় নতুন একটি জিবিপি হাসপাতাল আউটলেট ক্যান্সার হাসপাতালের কাছাকাছি স্থাপনের সরকারি সিদ্ধান্তে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক এবং বিশিষ্ট সমাজকর্মী তাপস দে। তিনি স্বাস্থ্য সচিব, কিরণ গিত্তেকে (আইএএস) একটি চিঠি দিয়েছেন, যেখানে প্রস্তাবিত স্থানটি পুনর্বিবেচনার জন্য জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে।
তিনি লিখেন, রাজ্য সরকার ত্রিপুরার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অনুদান এবং ৪০ কোটি টাকা (ওএনজিসি)রাজ্য তহবিল থেকে বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন জিবিপি হাসপাতাল আউটলেট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, যা ত্রিপুরার ক্রমবর্ধমান রোগীদের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। তবে, তাপস দে তার চিঠিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছেন, যা প্রস্তাবিত স্থানে এই আউটলেট স্থাপন করলে সৃষ্টি হতে পারে।
প্রাক্তন বিধায়ক তাপস দে’র প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো বিকিরণ চিকিৎসা পদ্ধতির (Linear Accelerator) ব্যবহার। আধুনিক ক্যান্সার থেরাপির অবিচ্ছেদ্য অংশ এই পদ্ধতি এক্স-রে এবং গামা রশ্মি ব্যবহার করে, যা পার্শ্ববর্তী এলাকায় সম্ভাব্য বিপদ সৃষ্টি করতে পারে যদি পর্যাপ্ত সুরক্ষা এবং দূরত্বের মান বজায় না থাকে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ক্যান্সার হাসপাতালের সন্নিকটে এই নতুন আউটলেট স্থাপন করলে হাসপাতাল কর্মী, রোগী এবং দর্শনার্থীরা বিকিরণ ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন, বিশেষত যদি শিল্ডিং ব্যবস্থা দুর্বল হয়। শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতো দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য এটি আরও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। চিঠিতে পরিবেশগত ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্চ শক্তির বিকিরণ উৎসগুলো নিকটস্থ পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে এবং অনিয়ন্ত্রিত বিকিরণ দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যগত প্রভাব ফেলতে পারে।
তাপস দে আরও উল্লেখ করেছেন যে, ডায়াগনস্টিক রেডিওথেরাপি ইউনিটগুলো রোগীর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাক্তন বিধায়ক তাপস দে স্বাস্থ্য সচিবকে জনস্বাস্থ্যের সুবিধার জন্য এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ এবং একটি নিরাপদ জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এই বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে এখন সকলের নজর।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*