গোপাল সিং, খোয়াই, ২২ সেপ্টেম্বর || দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও অর্থাভাব—শেষ পর্যন্ত সেই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন লিটন চৌধুরী (৩৫), বিশালগড় থানার অন্তর্গত পূর্ব চাম্পামুড়া এলাকার বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন লিটন। তার পর থেকেই তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। স্ত্রীও মৃত্যুবরণ করেছেন, ঘরে রয়েছে বৃদ্ধ মা–বাবা ও দুই সন্তান। টাকার অভাবে চিকিৎসা সম্ভব হয়নি, যার ফলে ক্রমশ অসহ্য যন্ত্রণা তাকে ভেঙে দেয়।
শুক্রবার রাতে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘুমোতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শনিবার ভোরে পরিবারের সবার অগোচরে ঘর থেকে বেরিয়ে বাড়ির পেছনের একটি রাবার গাছে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। তাঁকে নিচে নামানো হলেও ততক্ষণে প্রাণহীন হয়ে পড়েছিলেন লিটন।
খবর পেয়ে বিশালগড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বিশালগড় মহকুমা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা পূর্ব চাম্পামুড়া এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক। পরিবারের কান্না এবং প্রতিবেশীদের শোকবার্তা স্পষ্ট করছে—অর্থের অভাব কেড়ে নিলো আরও একটি প্রাণ।
