আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৮ নভেম্বর || ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ শনিবার আগরতলা কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তীব্রভাবে অভিযোগ করেন, ‘তিন তিনটি তথ্যবোমা ফাটানোর পর বিজেপির ভোট চুরি একেবারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।’ তিনি জানান, এসআইআরের নামে ভোটার তালিকায় জালিয়াতি, ভোটারদের নাম বাদ দেয়া এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোটারদের টার্গেট করে রাজনৈতিক সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে কংগ্রেসের দৃষ্টান্তমূলক অভিযোগ।
সুদীপ রায় বর্মণ বলেন, “নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি সহায়তা করছে; ভোটার তালিকা থেকে অনৈতিকভাবে নাম কেটে ফেলা ও জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসবের ফলে বৃহৎ স্কেলে ভোট চুরি সম্ভব হচ্ছে।” তিনি এ ধরনের কার্যকলাপ রোধে তৎপর হওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, বিরোধী দলগুলোর ওপর কড়া নজর দরকার।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিষ কুমার সাহা। আশিষ সাহা কটাক্ষ করে বলেন, “সরকার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে না পারলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়বে। আমরা এই অনৈতিক প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে শীর্ষ পর্যায়ে লড়াই করব।” তিনি বলেন, কংগ্রেস কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জোরালো প্রতিরোধ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
কংগ্রেস নেতা আরও জানান, ভোট চুরি ও ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে জনমত জাগরুক করার লক্ষ্যে এ মাসেই দিল্লীর রাম লীলা ময়দানে একটি বৃহৎ জনজমায়েতের আয়োজন করা হচ্ছে। এই সমাবেশে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর দেওয়া তথ্যমালার ওপর ভিত্তি করে বিস্তারিত আলোচনা ও পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে, জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “রাহুল গান্ধীর দেওয়া তথ্যগুলো আমরা জনগণের সামনে তুলে ধরব এবং হাতাহাতি নয়, আইনি ও সাংগঠনিক পথে এই অনিয়ম রুখে দেব।” তিনি নাগরিক সমাজ, ছাত্র-যুব ও স্থানীয় সংগঠনগুলোকেও কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি পরিবর্ধিত তাৎপর্য ধারণ করেছে। কংগ্রেসের এই অভিযোগ সরকারি তত্ত্বাবধায়ক বা নির্বাচন কমিশনের দফতর এখনও মন্তব্য করেনি। রাজ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি অভিযোগের কপিকলপ প্রমাণ পাওয়া যায়, তাতে আগামী নির্বাচনী লড়াইয়ে তা বড় অঙ্কের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
কংগ্রেস নেতারা অভিযোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার ও ভোটাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, “গণতন্ত্রকে যদি আমরা রক্ষা করতে না পারি, আগামী প্রজন্মের জন্য স্বাধীন ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনিশ্চয়তায় পড়বে”—এই মনোভাব তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন কংগ্রেস সূত্ররা।
