গন্ডাছড়ায় রহস্যমৃত্যু: নিখোঁজের দু’দিন পর স্কুলসংলগ্ন পুকুর থেকে ইটভাটা শ্রমিকের ছেলের মরদেহ উদ্ধার, বাউন্ডারি না থাকায় ক্ষোভ অভিভাবকদের

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১৯ নভেম্বর || গন্ডাছড়া এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার দু’দিন পর স্কুলসংলগ্ন একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হল ইটভাটা শ্রমিকের কিশোর ছেলের মরদেহ। বুধবার সকালে ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত কিশোরের নাম কিরণ মাজি (১৬)। তিনি বিহারের বাসিন্দা এবং বাবার সঙ্গে স্থানীয় একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতে এসে গন্ডাছড়ায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় কিরণ। পরিবারের সদস্যরা ইটভাটা এলাকা ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। দু’দিন পর বুধবার সকালে গন্ডাছড়া দ্বাদশ শ্রেণির ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ঠিক পাশের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে গন্ডাছড়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে কিরণের বাবা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, কিশোরের মৃত্যু জলে ডুবে হয়েছে। তবে এর পিছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিরণের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। তাই নিখোঁজ হওয়ার দু’দিনের মাথায় স্কুলসংলগ্ন পুকুরে তার দেহ কীভাবে এল, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গন্ডাছড়ায়।
এই ঘটনার জেরে স্কুল পরিচালন সমিতি তথা SMC-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ ছয় মাস আগে স্কুল চত্বরের চারদিক ঘিরে বাউন্ডারি দেওয়ার দাবি জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা হয় এই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে, কিন্তু শিক্ষকসংখ্যা অত্যন্ত কম—এমন অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। অভিভাবকদের ক্ষোভ—যদি কোনো ছাত্র বা ছাত্রীর সঙ্গে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটত, তাহলে দায় নিত কে?
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্কের পাশাপাশি ক্ষোভও বাড়ছে। পুলিশ ঘটনার সার্বিক দিক খতিয়ে দেখছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*