সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ২১ জানুয়ারি || বিবাহিত জীবনের মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হলো ২৫ বছরের এক গৃহবধূর। ঘটনাকে ঘিরে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও পরিকল্পিত হত্যার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মৃতার বাপের বাড়ির লোকজন। তেলিয়ামুড়া থানাধীন মাইগঙ্গা এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে।
মৃত গৃহবধূর নাম ঝুমা বিশ্বাস। তিনি মাইগঙ্গা এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব বিশ্বাসের স্ত্রী। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ঝুমা। তড়িঘড়ি তাঁকে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তবে মৃত্যুর পর থেকেই গোটা ঘটনাটি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মৃতার বাপের বাড়ির অভিযোগ, ঝুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁদের আগে জানানো হয়নি। এমনকি মৃত্যুর খবরও গোপন রাখার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, বিয়ের পর থেকেই ঝুমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল।
মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তাঁদের দাবি, ঝুমার দেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে পণ ও পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে নির্যাতন চলছিল, যার ফলেই এই মৃত্যু।
খবর পেয়ে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এক তরুণ গৃহবধূর আকস্মিক মৃত্যু—না কি পারিবারিক নির্যাতনের মর্মান্তিক পরিণতি—এই প্রশ্নই এখন তেলিয়ামুড়া জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে এলাকাবাসী।
