গোপাল সিং, খোয়াই, ২১ জানুয়ারি || এডিসি নির্বাচনের প্রাক্কালে ত্রিপুরার রাজনীতিতে ফের চরম উত্তাপ। তিপ্রাসা স্বার্থে জনজাতি মুখ্যমন্ত্রীর দাবি তুলে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনার আগুনে ঘি ঢাললেন তিপ্রা মথা পার্টির সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর দেব বর্মণ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, রাজ্যের জনজাতি সমাজের কেউ মুখ্যমন্ত্রী না হলে ত্রিপুরার জনজাতিদের দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
একসময় পৃথক জনজাতি রাজ্যের দাবিকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ময়দানে নামা প্রদ্যুৎ কিশোরের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা। বিশেষ করে এমন সময়ে এই বক্তব্য উঠে আসায় তার তাৎপর্য আরও বেড়েছে, যখন খুব কাছেই ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচন।
যে মঞ্চ থেকে এই বক্তব্য উঠে আসে, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অরাজনৈতিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেও, বক্তব্যের প্রতিটি বাক্যে রাজনৈতিক ইঙ্গিত স্পষ্ট বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। তাঁদের মতে, এডিসি ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী বদলের দাবি নিছক আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সাংসদ কৃতি দেবী দেববর্মা, যিনি প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মনের সহোদরা। উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনের আগে একটি অলিখিত সমঝোতার ভিত্তিতে পূর্ব ত্রিপুরা লোকসভা আসনে বিজেপির প্রতীকে প্রার্থী হন কৃতি দেবী দেববর্মা। সেই প্রেক্ষাপটে, বোনের উপস্থিতিতেই নাম না করে জনজাতি মুখ্যমন্ত্রীর ডাক দেন। তিনি বলেন, ওদের কাছে অনেক অর্থও আছে, ক্ষমতাও আছে। কিন্তু যদি জনজাতি অংশের মানুষ এক হয় তবে আগামী প্রজন্ম সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে উঠবে। কেউ পুলিশ কনস্টেবল হবেনা, পুলিশ আধিকারিক হবে।
মঙ্গলবার রাতে উত্তর ত্রিপুরা জেলার পানিসাগর মহকুমার দুগঙ্গা হিন্দুরাইল এডিসি ভিলেজ এলাকায় রাংলং সম্প্রদায়ের তিনদিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসবের ৯ম ‘রাংলং খুহুই’ অনুষ্ঠানে এই বক্তব্য দেন প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ কৃতি দেবী দেববর্মা সহ রাজ্যের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রাংলং সম্প্রদায় ত্রিপুরার ১৯টি স্বীকৃত জনজাতির অন্যতম। অনুষ্ঠানে রাংলং সম্প্রদায়ের প্রধানের হাতে একটি ঐতিহ্যবাহী রাজ তরবারি তুলে দেন প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, রাজতন্ত্র না থাকলেও রাজতন্ত্রের ঐতিহ্য, সম্মান ও পরম্পরা রক্ষা করা জরুরি। এই বক্তব্যে একদিকে সাংস্কৃতিক আবেগ, অন্যদিকে শক্ত রাজনৈতিক প্রতীকী বার্তাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
