গোপাল সিং, খোয়াই, ২২ জানুয়ারি || সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করতে কোনও ধরনের অপপ্রচারে কান না দিয়ে আদর্শে অবিচল থাকার আহ্বান জানালেন ডিওয়াইএফআই-এর সর্বভারতীয় সম্পাদক হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্যী। বুধবার বিলোনীয়া করুনা রায় স্মৃতি ভবনে ডিওয়াইএফআই ও টিওয়াইএফ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সাম্রাজ্যবাদের দাদাগিরি রুখতে প্রতিরোধের অস্ত্র হোক সমাজতন্ত্র’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তার ভাষণে তিনি বলেন, শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে সমাজতন্ত্রের লড়াই আরও দৃঢ় ও সংগঠিত করা জরুরি।
সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্যী বলেন, সাম্রাজ্যবাদ আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণা প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে তুলছে। অন্যদিকে সমাজতন্ত্র মানবিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্রাজ্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের লড়াই শুধু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেই নয়, ভারতবর্ষের ভেতরেও চলমান। ডিওয়াইএফআই সহ বিভিন্ন বামপন্থি সংগঠন ও রাজনৈতিক দল সমাজতন্ত্রের আদর্শকে সামনে রেখে এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্রাজ্যবাদ মূলত পুঁজিবাদেরই সর্বোচ্চ স্তর, যার মূল লক্ষ্য গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর শোষণ বাড়িয়ে মুনাফা বৃদ্ধি করা। বর্তমান নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার সাম্রাজ্যবাদী শক্তির স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর বিজেপি শাসনামলে সাম্রাজ্যবাদী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েই দেশ পরিচালিত হচ্ছে।
প্রধান বক্তা আরও অভিযোগ করেন, সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে যখন বামপন্থি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন আন্দোলন গড়ে তুলছে, তখনই পুঁজিবাদী শক্তি সাম্প্রদায়িক আক্রমণ নামিয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে দুর্বল করার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করছে। সাম্প্রদায়িক নীতির মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি রুজি-রুটি ও কর্মসংস্থানের প্রশ্ন থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং দেশজুড়ে লুটের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি বেকারত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মোদি সরকারের আমলে চাকরির সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিওয়াইএফআই ত্রিপুরা রাজ্য সভাপতি পলাশ ভৌমিক এবং সংগঠনের বিলোনীয়া মহকুমা সম্পাদক মধুসূদন দত্ত। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিওয়াইএফআই বিলোনীয়া মহকুমা সভাপতি সুব্রত দাস। সমগ্র অনুষ্ঠান জুড়ে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও সমাজতন্ত্রের লড়াই জোরদারের বার্তাই প্রাধান্য পায়।
