গোপাল সিং, খোয়াই, ০৭ ফেব্রুয়ারি || সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়ার ভগ্নদশা। ত্রিপুরার সুপরিচিত বাঁশ দিয়েই লজ্জা ঢেকে রাখা হয়েছে। এযেন কাঁটাতারের বেড়া নয়, বহু দীর্ঘ বিস্তৃত বাঁশের বেড়ার সীমান্ত। আর এই সীমান্তে বিএসএফের ঢিলেমিতে কি খোয়াইসহ গোটা দেশ বর্তমানে এক গভীর নিরাপত্তা উদ্বেগের মুখে দাঁড়িয়ে? খোয়াই জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে অনুপ্রবেশের অভিযোগ নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ায় জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা। স্থানীয়দের জনগণের দাবি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রবণতা বাড়ছে এবং এর মাধ্যমে অপরাধচক্র বা সমাজবিরোধী শক্তির সদস্যরা ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ছে কি না, তা নিয়েই উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, বাংলাদেশে আসন্ন ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও সীমান্ত পরিস্থিতির টানাপোড়েনের মধ্যেই আশারামবাড়ী, বনবাজার, পহরমুড়া, বেলছড়া ও গৌরনগরসহ একাধিক সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহজনক যাতায়াত ও অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় দালালচক্রের সহায়তায় সীমান্ত পারাপার অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে জনগণের অভিযোগ, খোয়াইতে বর্তমানে সরকারী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের হিড়িকের মধ্যে ভিভিআইপিদের সুরক্ষা দিতে ব্যস্ত পুলিশ প্রশাসন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই সীমান্তে বাড়ছে অনুপ্রবেশের লাগামহীন ঘটনা। খোয়াইবাসীর আশঙ্কা, এই অনুপ্রবেশের সুযোগে অপরাধচক্র বা অন্য কোনো সমাজবিরোধী শক্তির সদস্যরা রাজ্য ও দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ছে কি না, তা স্পষ্টভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি। সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী বিএসএফের নজরদারি ও পুলিশের টহল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, কাঁটাতার ও পাহাড়ার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও অনুপ্রবেশের অভিযোগ বাড়ছে, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে।
যদিও কেন্দ্রীয় সরকার সন্ত্রাসবাদ ও অনুপ্রবেশ রোধে কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা বারবার জানিয়ে আসছে, তবুও খোয়াই সীমান্ত ঘিরে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ ও উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে সীমান্তে বিএসএফের নজরদারি জোরদার এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ তদন্ত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
