মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ভাতা, একাউন্ট থেকে লক্ষাধিক টাকা তোলার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে লিখিত আবেদন মৃতের পরিবারের

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৭ ফেব্রুয়ারি || উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক ঘিরে উঠেছে চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ। মৃত এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে এটিএমের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ এনে সরব হয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ঘটনায় ব্যাংক ম্যানেজার ও সিইও-র ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কদমতলা থানাধীন কালাগাঙ্গের পার এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত আব্দুল নূরের নামে কদমতলা গ্রামীণ ব্যাংকে একটি সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট ছিল। আব্দুল নূরের মৃত্যু হয় ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর। তাঁর মৃত্যুর পর অ্যাকাউন্টে থাকা জমানো টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওয়ারিশনামা ও ফ্যামিলি রেজিস্টার জমা দিতে বলে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় ছয় মাস আগেই প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হলেও, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বারবার ‘উপরের দপ্তর থেকে অনুমোদন আসেনি’—এই অজুহাতে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখে বলে অভিযোগ।
পরিবারের সদস্য আব্দুল জালাল জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে পাসবই আপডেট করে তারা চরমভাবে হতবাক হয়ে যান। তাদের দাবি অনুযায়ী, পাসবইয়ে দেখা যায়—অ্যাকাউন্ট থেকে এটিএমের মাধ্যমে মোট ১ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকারও বেশি অর্থ তোলা হয়েছে, অথচ পরিবার বা কোনও বৈধ ওয়ারিশ কখনও ওই টাকা তোলেননি।
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ব্যাংক ম্যানেজার, ব্যাংকের সিইও এবং বাইরের কিছু ব্যক্তির যোগসাজশেই এই অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি ফখরুদ্দিন ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানতে চেয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হেড অফিসে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আরও অভিযোগ, এক পর্যায়ে ব্যাংক ম্যানেজার ও সিইও তাঁদের বাড়িতে এসে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ‘মিটিয়ে নেওয়ার’ প্রস্তাব দেন—যা গোটা ঘটনায় নতুন করে সন্দেহের তীর ছুড়েছে।
পরবর্তী সময়ে আবার পাসবই আপডেট করলে অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৫৩৪ টাকা জমা থাকার এন্ট্রি দেখা যায়। পরিবার প্রশ্ন তুলেছে—এই টাকা কোথা থেকে এল, কে বা কীভাবে এই এন্ট্রি করল—তা নিয়ে কোনও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা তারা পাননি।
আরও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে, মৃত ব্যক্তি হওয়ার ছয় বছর পরও কীভাবে তাঁর অ্যাকাউন্টে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের সরকারি ভাতা জমা হয়েছে। এক্ষেত্রে e-KYC, মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য আপডেট এবং অ্যাকাউন্ট স্ট্যাটাস যাচাই প্রক্রিয়া আদৌ মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আগেই মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছিল। সম্ভবত সিডিপিও (CDPO) দপ্তরের গাফিলতির কারণে ভাতার টাকা ঢুকেছে বলে তাদের অনুমান। পরিবারের দাবি, সরকারি অতিরিক্ত টাকা তারা ফেরত দিতে প্রস্তুত, কিন্তু প্রয়াত পিতার কষ্টার্জিত জমানো অর্থ তারা ফিরে পেতে চান। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে পরিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*