গোপাল সিং, খোয়াই, ১৫ ফেব্রুয়ারী || বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ঝাপসা ছবি দেখিয়ে বলা হলো ছবিটির বর্ণনা দাও। কোথাও ঝাপসা ছবি দেখিয়ে বলা হলো ছবিকে কেন্দ্র করে গল্প লিখ। উত্তর দিতে হিমশিম খেতে হলো ছাত্র-ছাত্রীদের। বহু ছাত্র-ছাত্রী সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ। ষান্মাসিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রেও একইভাবে ঝাপসা ছবি দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ছবির কুয়ালিটি বাছাইয়ে নজর নেই দপ্তরের। কুয়ালিটি শিক্ষা দেবার নামে অরাজক পরিস্থিতি রাজ্যের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে।
আজ অভিভাবকরা নিজ সন্তানের শিক্ষাগ্রহন নিয়ে চিন্তিত। জনগণের প্রশ্ন, শিক্ষা দপ্তর কি আজ নিয়ন্ত্রণের বাইরে? এই লাখ টাকার প্রশ্নের পেছনে রাজ্যের বিদ্যালয়ে পাঠরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত লুকিয়ে রয়েছে। কারণ আজ খুদ শিক্ষা দপ্তরই ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ভিলেইন রূপে অবতীর্ণ। সরকারী স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ চলছে। কিন্তু এবছর বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে উঠছে প্রচুর প্রশ্ন। খোয়াইয়ের স্কুলগুলোতে যখন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হাতে এলো, শিক্ষার্থীদের মনে কৌতূহল শুরু হয়। কিন্তু খুদে ছাত্র-ছাত্রীরা মুখ ফুটে কিছু বলতে পারেনি। আর অভিভাবকদের মতে, বলেও কি লাভ? পত্র-পত্রিকায় এত সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে শিক্ষা দপ্তরের উদাসীনতা নিয়ে। দপ্তর বা মন্ত্রী, কারোরই কোনো হেলদোল নেই।
খোয়াইয়ের সরকারী (বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পাধীন) বিদ্যালয়গুলিতে এখন পর্যন্ত যে সমস্ত বিষয়ে পরীক্ষাগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, সেই সব বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ‘পিকচার রিডিং’ সংক্রান্ত যে প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ইমেজ কুয়ালিটি মানে ছবি প্রিন্টিং জঘন্য মানের হয়েছে। পিকচার বা ছবি দেখে প্রশ্নের উত্তর বের করা একপ্রকার অসম্ভব। কিন্তু তারপরও শিক্ষার্থীরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু শিক্ষক স্বল্পতার জেরে গোটা ত্রিপুরা রাজ্যে যখন স্কুলের অবস্থা তথৈবচ, সেখানে অধিকাংশ সরকারী স্কুলে পেসেজ পড়ে উত্তর লেখা কিংবা ছবি দেখে (পিকচার রিডিং) উত্তর দেওয়ার কৌশল বা প্র্যাকটিস কোনটাই হয়নি। যে কারণে অধিক সংখ্যায় ছাত্র-ছাত্রীরা ইংরেজি মাধ্যম সরকারী স্কুলগুলোতে খুব একটা ভালো ফলাফল করতে সক্ষম হচ্ছেনা। এছাড়া ৫ম শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্নের শেষে নম্ববিহীন প্রশ্ন ধরা পড়েছে। এই প্রশ্ন যুক্ত হলে মোট ৮০ মার্কের প্রশ্নের থেকে মান বেশী হবে।
শিক্ষক স্বল্পতার মধ্যে আবার মর্জিমাফিক ছুটি ভোগ করা, স্কুল কামাই করা, শিক্ষক হয়ে অন্যান্য দায়িত্ব পালন করার বাড়তি চাপ সহ্য করার পর সরকারী স্কুলে পঠন-পাঠন লাটে। শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার দেড় মাস আগে, সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষা দপ্তর নিজেদের মর্জিমাফিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চললেও, দেখার কেউ নেই। কারণ শিক্ষা দপ্তর আজ নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
