সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০৯ মার্চ || আসন্ন এডিসি নির্বাচনকে পাখির চোখ করে পাহাড়ি জনপদগুলোতে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি বামফ্রন্ট প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে। ঠিক এই আবহে সোমবার ৪৪-রাইমাভ্যালি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত দলপতি এডিসি ভিলেজের জয়রাম পাড়া এলাকায় এক বিশাল যোগদান সভার মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির প্রদর্শন করল শাসক দল বিজেপি।
৪৪-রাইমাভ্যালি মণ্ডলের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এডিসি সদস্য ভূমিকা নন্দ রিয়াং, জনজাতি মোর্চার রাজ্য সম্পাদক জয় বাহাদুর রূপিনী সহ স্থানীয় ও জেলা স্তরের একাধিক নেতৃত্ব।
সভায় তিপ্রা মথা, সিপিআই(এম), কংগ্রেস এবং আইপিএফটি ত্যাগ করে মোট ১১২টি পরিবারের ২৮৪ জন ভোটার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগদান করেন। নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে তাদের স্বাগত জানান মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
যোগদানকারীদের বক্তব্য, বর্তমান রাজ্য সরকারের সুশাসন এবং জনজাতি এলাকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা দেখে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বর্তমান এডিসি প্রশাসন তথা তিপ্রা মথাকে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “তিপ্রা মথা শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতির রাজনীতি করে জনজাতি সমাজকে বিভ্রান্ত করেছে। ‘কুছ না কুছ দেগা’, ‘ইন্টারলোকেটর’, ‘লাস্ট ফাইট’ কিংবা ‘গ্রেটার তিপরাল্যান্ড’-এর মতো স্লোগান দিলেও বাস্তবে এডিসি এলাকায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। বেকারদের কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই তারা ব্যর্থ।”
অন্যদিকে ডবল ইঞ্জিন সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিজেপি সরকার জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে এবং আগামী দিনেও এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এডিসি নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা না হলেও দলপতি এলাকার এই গণযোগদান বিজেপির আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে মথার শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাইমাভ্যালিতে এই ভাঙন পাহাড়ি রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই যোগদান কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে, যার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে ব্যালট বাক্সেও প্রতিফলিত হবে।
