আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৫ এপ্রিল || ত্রিপুরার ধলাই জেলায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধীনে পরিচালিত Tripura Rural Economic Growth and Service Delivery Project (TRESP) গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করে বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে, যার ফলে তাঁদের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জীবিকার স্থায়িত্ব নিশ্চিত হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় গঠিত প্রোডিউসার গ্রুপগুলো ধীরে ধীরে ব্যবসামুখী হয়ে উঠছে। উন্নত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বাজার সংযোগের ফলে এই গ্রুপগুলোর কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জেলার মনু আর.ডি ব্লকের ময়নামা এলাকার বাসিন্দা রত্না ত্রিপুরার সাফল্যের গল্প এই পরিবর্তনের এক বাস্তব উদাহরণ। পূর্বে সীমিত জ্ঞান ও সম্পদের কারণে মাছ চাষ থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ১২ হাজার টাকা। কিন্তু TRESP প্রকল্পের আওতায় ফিশারি প্রোডিউসার গ্রুপে যুক্ত হয়ে তিনি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি উন্নত মানের পোনা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুকুর রক্ষণাবেক্ষণের কৌশলও আয়ত্ত করেন।
প্রকল্পের সহায়তায় তিনি ২০ হাজার টাকার স্বল্পসুদে ঋণ পান, যার সুদের হার মাত্র ৩ শতাংশ—যা সাধারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থার তুলনায় অনেক কম। এই আর্থিক সহায়তা কাজে লাগিয়ে তিনি পুকুর সংস্কার ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হন।
বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ফলে তাঁর উৎপাদন ১২০ কেজি থেকে বেড়ে বছরে ৪০০ কেজিতে পৌঁছেছে। প্রতি চক্রে তাঁর মোট আয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা, যেখানে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৩৮ হাজার টাকা এবং নিট লাভ প্রায় ৪৭ হাজার টাকা। ফলে তাঁর সামগ্রিক বার্ষিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়েছে।
শুধু আর্থিক উন্নয়নই নয়, এই প্রকল্প নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নেতৃত্ব গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রত্না ত্রিপুরার মতো মহিলারা এখন নিজেদের গ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন এবং অন্যদেরও স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করছেন।
সার্বিকভাবে, TRESP প্রকল্প ধলাই জেলার দরিদ্র জনজাতি জনগোষ্ঠীর জীবনে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। স্বল্পসুদে ঋণ, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বাজার সংযোগের মাধ্যমে এই প্রকল্প টেকসই উন্নয়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
