গোপাল সিং, খোয়াই, ১৭ এপ্রিল || টিটিএএডিসি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই খোয়াইয়ের ১২-রামচন্দ্রঘাট কেন্দ্রে বইছে আনন্দের জোয়ার। সমস্ত জল্পনা ও চ্যালেঞ্জকে পিছনে ফেলে এই কেন্দ্রে বিপুল জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন তিপ্রামথা পার্টির প্রার্থী জেমস দেববর্মা। তাঁর এই জয় কেবল একজন প্রার্থীর জয় নয়, বরং রামচন্দ্রঘাটের বিধায়ক তথা দলের হেভিওয়েট নেতা রঞ্জিত দেববর্মার রাজনৈতিক কৌশলের এক বড় জয় হিসেবেই দেখছে অভিজ্ঞ মহল।
রামচন্দ্রঘাট আসনে বিজেপি রাজ্য কমিটির সম্পাদক তথা হেভিওয়েট প্রার্থী ডেভিড দেববর্মার সাথে জেমসের লড়াই ছিল এবারের নির্বাচনের অন্যতম চর্চিত বিষয়। জেমস দেববর্মাকে প্রার্থী ঘোষণা করার পর বিরোধীদের পক্ষ থেকে ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে যে প্রচার চালানো হয়েছিল, আজকের ফলাফলে তা সম্পূর্ণ নস্যাৎ হয়ে গেল। বিপুল ভোটের ব্যবধানে ডেভিড দেববর্মাকে পরাজিত করে জেমস প্রমাণ করলেন যে, রামচন্দ্রঘাটের মানুষের আস্থা তিপ্রামথা ও রঞ্জিত দেববর্মার ওপর অটুট।
এদিন এক অনন্য সাধারণ দৃশ্যের সাক্ষী থাকল খোয়াই। ফলাফল ঘোষণার সময় কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে নয়, বরং কাউন্টিং হলের ব্যারিকেডের বাইরে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের সাথে ধুলোবালিতে রাস্তায় বসেই জয়ের প্রতীক্ষা করছিলেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। জয়ের খবর আসতেই আবেগ ও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন কর্মীরা। বিধায়ক নিজে বিজয়ী প্রার্থী জেমস দেববর্মাকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের মালা পরে এবং আবির মেখে সাধারণ কর্মীদের সাথে আনন্দে মেতে ওঠেন।
বিজয় উৎসবের মাঝেও দায়িত্বশীল নেতার পরিচয় দিয়েছেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। তিনি জয়ী হওয়ার পর সমস্ত কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়ে বলেন: “এই জয় জনগণের জয়। আমরা আনন্দের সাথে উৎসব করব, কিন্তু কোনোভাবেই যেন শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়। প্ররোচনায় পা দেবেন না এবং একে অপরের প্রতি সৌহার্দ্য বজায় রাখুন।”
পার্টি সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর মাণিক্য দেববর্মার ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত রঞ্জিত দেববর্মার কাছে এই আসনটি রক্ষা করা ছিল সম্মানের লড়াই। নিজের খাসতালুকে দলের ঝাণ্ডা উঁচিয়ে রেখে তিনি প্রমাণ করলেন যে, গ্রামীণ স্তরে তিপরা মথার সংগঠন এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেমস দেববর্মার এই বিশাল জয় আগামী দিনে রাজ্যের জনজাতি রাজনীতিতে রঞ্জিত দেববর্মার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে। দীর্ঘ নির্বাচনী প্রচারের ধকল শেষে আজ এক প্রাণভরা তৃপ্তির হাসি নিয়ে নিজের কেন্দ্রে ফিরলেন বিধায়ক ও তাঁর বিজয়ী সেনাপতি।
