গোপাল সিং, খোয়াই, ২৪ এপ্রিল || খোয়াই জেলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় সূচিত হলো। রাজ্য সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খোয়াই সরকারি বালিকা দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় (বিদ্যাজ্যোতি স্কুল)-এর নাম পরিবর্তন করে ত্রিপুরার কিংবদন্তি চিকিৎসক তথা পদ্মশ্রী প্রাপক ডঃ হেমেন্দু শেখর রায় চৌধুরীর স্মৃতিতে উৎসর্গ করা হয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অধিকর্তা রাজীব দত্ত স্বাক্ষরিত এক সরকারি মেমো মারফত জানানো হয়েছে যে, বিদ্যালয়টি এখন থেকে “ডঃ এইচ. এস. রায় চৌধুরী মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউশন” নামে পরিচিত হবে।
রাজ্য সরকারের বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর গত ২২শে মার্চ এই নামকরণে অনুমোদন দিয়েছিল, যা ১০ই এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই খোয়াই জেলা শিক্ষা আধিকারিক, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সহ সমস্ত দপ্তরকে নথিপত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ত্রিপুরার এক বরেণ্য ব্যক্তিত্বকে যথাযোগ্য সম্মান জানানো হলো বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ত্রিপুরার চিকিৎসা শাস্ত্রের ইতিহাসে ডঃ হেমেন্দু শেখর রায় চৌধুরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আগরতলার জিবি হাসপাতালে শল্য চিকিৎসক হিসেবে তিনি যে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন, তা চিরস্মরণীয়। সেই কঠিন সময়ে যুদ্ধাহত শরণার্থী, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জরুরি অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসায় তিনি অহোরাত্র নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ বীরত্বগাথার স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ প্রদান করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারও তাঁকে ‘ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার’ সম্মানে ভূষিত করেছে।
কেবল চিকিৎসা ক্ষেত্রই নয়, সত্তরের দশকে ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তাঁর ছিল বিশেষ প্রভাব ও পরিচিতি। খোয়াইয়ের একটি প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমন একজন কৃতি সন্তানের নামে উৎসর্গ করায় এলাকার অভিভাবক থেকে শুরু করে সুশীল সমাজের মধ্যে খুশির হাওয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয়ের নতুন এই পরিচয় আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মানবসেবা ও দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করবে।
