গোপল সিং, খোয়াই, ১৮ জুলাই || “এই লড়াই চলবে। এই লড়াই থামবে না। বারেবারে অন্ধকার আসবে, কিন্তু এই প্রতিরোধের সংগ্রাম বন্ধ হবে না—যদি সভ্যতাকে বেঁচে থাকতে হয়। যদি মানুষকে এক অসাম্যহীন এক সমাজ তৈরি করতে হয়, তবে এই লড়াই চালিয়ে যেতেই হবে।” আজ খোয়াই স্বপনপুরী অডিটরিয়ামে ‘কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য জন্ম শতবর্ষ উদযাপন কমিটি’ আয়োজিত ‘বিপন্ন মানুষের বন্ধুঃ কবি সুকান্ত’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চক্রে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বৈপ্লবিক আহ্বান জানালেন ওড়িশা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি শুভাশিস তলাপাত্র।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আজ ভারতের মোট সম্পদের প্রায় ৪০% থেকে ৬০% শতাংশের মালিকানা চলে গেছে দেশের শীর্ষ ১% থেকে ২% অতি ধনী মানুষের হাতে। আর এই মুষ্টিমেয় অতি ধনীরাই দেশের ৬৭% সাধারণ মানুষকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। দুঃখজনকভাবে, এদেশের অনেক ধনী মানুষের উপার্জিত টাকা আজ জনকল্যাণের চেয়ে অস্ত্র তৈরিতে বেশি খরচ হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
আজকের এই তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে ‘কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য জন্ম শতবর্ষ উদযাপন কমিটি’র আহ্বায়ক অরুন পাল এবং কমিটির সভাপতি সুখেন্দু বিকাশ দে উপস্থিত ছিলেন। অডিটরিয়ামের দর্শক আসনে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস সহ খোয়াইয়ের বহু বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, বুদ্ধিজীবি, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকামী মানুষজন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী শেলী চক্রবর্তী। এরপর প্রধান অতিথি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির হাতে মানপত্র তুলে দেন অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞান শিক্ষক তথা কবি মনোজিৎ দত্ত এবং অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট নাট্যকার অরুন পাল।
এদিনের এই আলোচনা চক্রের মূল আকর্ষণের পাশাপাশি কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত প্রবন্ধ ও চিঠি লেখা প্রতিযোগিতার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার পাশাপাশি স্মারক ও শংসাপত্র প্রদান করা হয়। উপস্থিত অতিথিদের হাত থেকে স্মারক ও শংসাপত্র সংগ্রহ করেন প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার সাধারণ বিভাগে অন্যতম যথাক্রমে সাংবাদিক, শিক্ষক ও কবি যশপাল সিং, কবি ও সমাজকর্মী দীপেন নাথশর্ম্মা, কবি রাজীব আচার্য্য, ঋতু শুক্লবৈদ্য, পুনম সাহা এবং কবি সুব্রত আচার্য্য। অপরদিকে স্কুল স্তরে বিজয়ীরা হলো (নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী) রিমি নমঃশূদ্র (দ্বাদশ শ্রেণী, শরৎচন্দ্র দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়), রিয়া দেবনাথ (দশম শ্রেণী, এইচ. এস. রায় চৌধুরী বিদ্যালয়), স্নেহা কর (নবম শ্রেণী, ড. এইচ. এস. রায় চৌধুরী মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউশন), রিয়া দে (নবম শ্রেণী), শ্রীপর্ণা দাস (দ্বাদশ শ্রেণী) এবং পাপাই দেব (একাদশ শ্রেণী, বারবিল হাই স্কুল ও শরৎচন্দ্র দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়)।
এরপর চিঠি লেখা প্রতিযোগিতায় ‘ক’ বিভাগে (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী) নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ চিঠিগুলো লিখে সম্মাননা পেয়েছে— অনূদত্তা ভট্টাচার্য্য (সপ্তম শ্রেণী, আনন্দমার্গ হাই স্কুল), শ্রেয়সী দাস (অষ্টম শ্রেণী, আনন্দমার্গ হাই স্কুল), দিব্যাঞ্জন কর (সপ্তম শ্রেণী, প্রণবানন্দ বিদ্যামন্দির), তন্ময় পাল (অষ্টম শ্রেণী, জি-নেক্সট মডেল স্কুল), দেবমালী স্বামীদাম (সপ্তম শ্রেণী, প্রণবানন্দ বিদ্যামন্দির), অনুষ্কা লোধ (অষ্টম শ্রেণী, ড. এইচ. এস. রায় চৌধুরী মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউশন), দেবলীনা নমঃশূদ্র, সুস্মন দেববর্মা (অষ্টম শ্রেণী, জি-নেক্সট মডেল স্কুল), প্রান্তিকা নাগ (অষ্টম শ্রেণী, ড. এইচ. এস. রায় চৌধুরী মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউশন) এবং বীরাঙ্গনা ঘোষ। ‘খ’ বিভাগে (নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী) কৃতি হিসেবে সম্মাননা গ্রহণ করেছে রিমি নমঃশূদ্র (শরৎচন্দ্র দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়), সুপ্রীতি দেবনাথ (গণকী কলোনী দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়) এবং সাগরিকা দেবনাথ। সাধারণ বিভাগে এই সম্মাননা পেয়েছেন কবি দীপেন নাথশর্ম্মা ও নাট্যকার গণেশ দেবরায় সহ অন্যান্যরা।
প্রগতিশীল কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের আদর্শকে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে শতবর্ষ উদযাপন কমিটির এই মননশীল ক্রীড়া ও সাহিত্যিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন খোয়াইয়ের সুধী সমাজ।
