বিশ্বেশর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ২৫ জুন || পূর্ত দপ্তর বলতেই সকলে বোঝে রাস্তা, ব্রীজ ও সরকারি নতুন ভবন নির্মান করা। শান্তিরবাজার পূর্ত দপ্তর সর্বদা নিষ্ঠার সহিত কাজ করার পাশাপাশি সাধারন গরীব অংশের লোকজনদের পাশে দারাচ্ছে। শান্তিরবাজার পূর্ত দপ্তরের উদ্দ্যোগে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদে ২০২৪ সালে শান্তিরবাজার মহকুমা থেকে সেরা দশের মধ্যে স্থানাধীকারীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বিগত দিনেও শান্তিরবাজার পূর্ত দপ্তর এইধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।
এইবছর ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মাধ্যমিকের ফলাফলে শান্তিরবাজার সানফ্লাওয়ার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে সেরা দশের মধ্যে ৪ জন রয়েছে ও জোলাইবাড়ী থেকে একজন ছাত্র রয়েছে। এরমধ্যে সানফ্লাওয়ার ইংলিশ মিডিয়ামে সেরা দশের মধ্যে সমগ্র ত্রিপুরার মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানাধিকারী রয়েছে। এই ৫ জন ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ায় উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে শান্তিরবাজার পূর্ত দপ্তরের এক্সিউটিভ তাপস মারাক ও এস ডি ও প্রবীর বরণ দাসের উদ্দ্যোগে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার পূর্ত দপ্তরের অফিসের কনফারেন্স হলে এই অনুষ্ঠান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শান্তিরবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং। প্রধান অতিথির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন শান্তিরবাজার পৌর পরিষদের চেয়ারম্যান সপ্না বৈদ্য, সানফ্লাওয়ার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রিন্সিপল গোপাল চন্দ্র মল্লিক, শান্তিরবাজার পূর্ত দপ্তরের এক্সিউটিভ তাপস মারাক, শান্তিরবাজার পূর্ত দপ্তরের এস ডি ও প্রবীর বরণ দাস সহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা সারা ত্রিপুরার মধ্যে সানফ্লাওয়ার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ফলাফলের জন্য বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপল ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানান। বক্তারা জানান, আগে সকলে জানতেন আগরতলায় গেলে ভালো লেখাপড়া হয় কিন্তু বিগত দিনের ফলাফল ও এই বছরের ফলাফলে সকলে বুঝতে পেরেছে শহরের পাশাপাশি গ্রাম এলাকা লেখাপড়ায় পিছিয়ে নেই। সকলে বক্তবের মধ্যদিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আগামীদিনের উজ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। বক্তার জানান, এখনকার যুবক যুবতীরা আগামীদিনে ডাক্তার বা ইঞ্জিনায়ার হবার প্রবনতা বেশি থাকে। একজন সফল চিকিৎসক হতে গেলে ১২ বছর লেখা পরা করতে হয়। তাই ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হবার পাশাপাশি শিক্ষক, আই এ এস অফিসার, আই পি এস, টি পি এস, টি সি এস এইধরনের পদে কাজ করার জন্য উৎসাহিত হতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তাদের বক্তব্য শেষে কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অবশেষে কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের আগামীদিনে কি হতে চায় তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী কৃতি ৫ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে দুই জন ছাত্র আগামীদিনে ডাক্তার ও একজন ইঞ্জিনিয়ার হবার পরিকল্পনা নিয়েছে। বাকি দুইজন বেতিক্রম পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এদের মধ্যে জোলাইবাড়ী দ্বাদশ শ্রেনী বিদ্যালয় থেকে সেরা দশের মধ্যে নবম স্থান অর্জনকারী রাজেশ দেবনাথ ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে ও সানফ্লাওয়ার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে সেরা দশের মধ্যে সপ্তম স্থান অর্জনকারী ছাত্রী তপলিনা দত্ত আগামী দিনে পলিটিক্স করার সপ্ন দেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানায়। এই দুই ছাত্র-ছাত্রীর বেতিক্রমী চিন্তাভাবনাকে সকলে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সকলে এদের আশা পূরনের জন্য উজ্বল ভবিষ্যৎতের কামনা করেছেন। শান্তিরবাজার পূর্ত দপ্তরের উদ্দ্যোগে এইধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করাতে সকলে পূ্র্ত দপ্তরের আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
