গোপাল সিং, খোয়াই, ২১ নভেম্বর || ‘ফটা পোষ্টার, নিকলা চুহা’! এতদিন ‘চোরে-পুলিশে ছিলো মাসতুতু ভাই’-এর সম্পর্ক! রাজ্যবাসী এখন ত্রিপুরা পুলিশের সাথে নেশা কারবারীদের নতুন সম্পর্কের খোঁজ পেয়েছে। মাদক ও নেশা কারবারীদের ‘দুশমন বনগায়া দোস্ত’— পুলিশ! বলছেন জনসাধারণ।
আমাদেরও ফের মিলে গেল তথ্য। গত ১৩ই নভেম্বর ২০২৫ তারিখে যে বিস্তৃত রিপোর্টে ত্রিপুরার একের পর এক নাকা চেকিং পেরিয়ে আড়াই কোটি টাকার গাঁজা কীভাবে ত্রিপুরা থেকে বেরিয়ে শেষ পর্যন্ত চুরাইবাড়ি পুলিশ ওয়াচ পোষ্ট, শ্রীভুম আসাম পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল— সেই একই কৌশল আবারও সামনে এল।
শুক্রবার ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন নাকা চেকিং অনায়াসে পেরিয়ে অর্ধ কোটি টাকার গাঁজা অসমে প্রবেশ করার পর বাজারিছড়া এলাকায় চুরাইবাড়ি পুলিশ ওয়াচ পোষ্ট, শ্রীভুম আসাম পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এতে আবারো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, ত্রিপুরার নাকা চেকিং ও পুলিশি নজরদারি মাদক পাচার রোধে কতটা ব্যর্থ, এমনকি কোথাও কোথাও তা পাচারকারীদের সহযোগিতার রূপ নিচ্ছে।
অসমে প্রবেশের পর গাঁজা বোঝাই গাড়িটি নজরে আসে চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্টের পুলিশের। মাছের কার্টুনের আড়ালে চতুরভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ শুকনো গাঁজা। পুলিশের তল্লাশি শুরু হতেই সুযোগ বুঝে পলায়ন করে গাড়ির চালক। পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা গাড়িটিতে সন্দেহ জনমাতেই পুলিশ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তল্লাশি করে। এরপরই উদ্ধার হয় ২৮টি কার্টুনের মধ্যে থাকা ২৮৪ প্যাকেট, যার মোট ওজন প্রায় ২৫৮ কেজি। কালোবাজারে যার দাম প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। গাঁজা বোঝাই লড়িটি জোলাইবাড়ি থানাধীন পাপ্পু মজুমদারের (পিতা- দিলীপ মজুমদার) এবং লড়ির নম্বর TR018-E1531 বলে জানা গেছে। লড়ির মালিকের বাড়ী দেবদারু, বাইখোড়া, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় বলে জানা গেছে।
অভিযানে নেতৃত্বে ছিলেন চুরাইবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ প্রনব মলি। অসম পুলিশের ধারাবাহিক মাদক-বিরোধী অভিযান ইতিমধ্যেই নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পাচারকারীদের রুট ও পদ্ধতি বদলাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আসাম পুলিশের সতর্ক নজর ফাঁকি দেওয়া এখনও অসম্ভব।
গত এক সপ্তাহে ত্রিপুরা থেকে বিভিন্ন গোপন রুটে আসামমুখী অন্তত আট কোটি টাকার গাঁজা পাথারকান্দি, রাতাবাড়ি ও বাজারিছড়া থানা এলাকায় উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার ধরা পড়া নতুন চালানটি এনডিপিএস আইনের অধীনে মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে চুরাইবাড়ি পুলিশ।
অবিরাম মাদক পাচারের ঘটনায় প্রশ্নের মুখে ত্রিপুরার পুলিশের ভুমিকা। পুলিশ কি নেশা বিরোধী অভিযান নিয়ে জনগণকে ওয়াকিবহাল করছে নাকি নেশার পাচারে ‘সম্রাট’ হওয়ার চেষ্টা করছে? — প্রশ্ন রাজ্যবাসীর।
