গোপাল সিং, খোয়াই, ২৫ ফেব্রুয়ারী || সরকারী চাকুরী পাওয়া যখন কঠিন, তখনও যদি সরকারী চাকুরীজীবি শিক্ষকরাই প্রাইভেট টিউশনটাও বগলদাবা করে রাখে তবে উচ্চশিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা কিভাবে পরিবারের ভরনপোষণ করবে? সরকার চাকুরীরত শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধে হুলিয়া জারি করলেও, চাকুরীজীবি শিক্ষকরা তা কানেই তুলছেনা। শুধু খোয়াই নয়, গোটা রাজ্যজুড়েই প্রকাশ্যে সরকারী স্কুল শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশন চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ রাজ্যে বেকারত্বের সংখ্যা নেহাত কম নয়। বেকাররা যাবে তো, যাবে কোথায়!
এসব প্রশ্নের মুখেই, সরকারি চাকরিরত শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন পুরোপুরি বন্ধের দাবিতে পুনরায় সরব হলেন খোয়াইয়ের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবাদী ব্যক্তি। এর আগেও একই অভিযোগ তুলে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষা দপ্তর বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি এবার সরাসরি প্রমাণসহ লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন।
২৩শে ফেব্রুয়ারী, পোস্ট অফিসের মাধ্যমে তিনি আবেদনপত্র প্রেরণ করেছেন ডিরেক্টরেট অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন, ত্রিপুরা-এর নিকট, যার অনুলিপি পাঠানো হয়েছে জেলা শাসক, মহকুমা প্রশাসন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছেও। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, কিছু সরকারি শিক্ষক নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত কোচিং বা প্রাইভেট টিউশনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, যা সরকারি পরিষেবা আচরণবিধির পরিপন্থী। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণও সংযুক্ত করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
আবেদনপত্রে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সুবিমল দেবনাথ (কল্যাণপুর এইচএস স্কুল), সৌমক গুপ্ত (গণকি হাই স্কুল), বিষ্ণু গোপ (খোয়াই গভর্নমেন্ট হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল), প্রীতয়ন দেববর্মা (খোয়াই গভর্নমেন্ট ইংলিশ মিডিয়াম হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল), শ্রীনাথ দত্ত (খোয়াই গভর্নমেন্ট এইচএস স্কুল, মর্নিং), নিরজ কান্তি গোপ (উত্তর রামচন্দ্রঘাট হাই স্কুল), বিপ্লব দাস (কমলপুর এইচএস স্কুল), আতিগুল ইসলাম, লিটন দেব এবং উত্তম দেব (খোয়াই গভর্নমেন্ট হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল)।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, সরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন কার্যক্রম বন্ধ করা গেলে বহু বেকার শিক্ষিত যুবক-যুবতী টিউশনির মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ পাবেন। তাঁর মতে, বিষয়টি কেবল নিয়মভঙ্গের প্রশ্ন নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গেও যুক্ত।
এদিকে জনগণের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে এ ধরনের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেলে সাময়িকভাবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে তদারকির অভাব থেকেই যায়। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরাও সরাসরি প্রতিবাদ করতে সাহস পান না বলে অভিযোগ উঠেছে।
অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি রাজ্যের বেকার শিক্ষিত যুবসমাজকেও এ বিষয়ে সচেতন হয়ে একযোগে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি? প্রশ্ন জনমনে।
