সিবিএসই ফলের আগেই দ্বিতীয় পরীক্ষার প্রস্তুতি, কল্যানপুরে বাড়তি ফি নিয়ে ক্ষোভ

গোপাল সিং, খোয়াই, ২১ মার্চ || সিবিএসই’র নতুন নীতিমালা অনুযায়ী মাধ্যমিক পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণের সুযোগ চালুর প্রেক্ষাপটে খোয়াই জেলার কল্যানপুর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের একটি নোটিশ ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকদের প্রশ্ন, এই ধরনের নির্দেশ কি অন্যান্য বিদ্যাজ্যোতি স্কুলেও জারি হয়েছে? ফলাফল ঘোষণার আগেই দ্বিতীয় পরীক্ষার জন্য সকল ছাত্র-ছাত্রীদের আবেদন করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, সিবিএসই ২০২৬ সাল থেকে দশম শ্রেণির জন্য বছরে দুটি বোর্ড পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে প্রথম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক এবং পরবর্তীতে নির্দিষ্ট বিষয়গুলিতে উন্নতির জন্য দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই দ্বিতীয় পরীক্ষা সাধারণত মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং ফলাফল প্রকাশিত হবে জুন মাসে।
এদিকে, ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে সিবিএসই গৌহাটি আঞ্চলিক দপ্তরের পক্ষ থেকে জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়, দ্বিতীয় পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পরীক্ষাকেন্দ্র সংখ্যা কম রাখা হবে এবং পরীক্ষার্থীদের দূরবর্তী কেন্দ্রেও যেতে হতে পারে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তালিকা প্রস্তুতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে কল্যানপুর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় থেকে জারি করা নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ২৬ মার্চের মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দ্বিতীয় পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে এবং নির্ধারিত ফি (একটি বিষয় ৩৭০ টালা, দুটি বিষয় ৭১০ টাকা এবং তিনটি বিষয় ₹
১০২০ টাকা) জমা দিতে হবে। যদিও ১৭ই মার্চ জারি করা এক নোটিশে সিবিএসই প্রতি বিষয়ের জন্য ৩২০ টাকা এবং তিনটি বিষয়ের জন্য ৯৬০ টাকা ধার্য করে দিয়েছে। এমনকি যারা দ্বিতীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক নন, তাঁদেরও ওইদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ভবিষ্যতে ফলাফল সংক্রান্ত সমস্যার দায় বিদ্যালয় নেবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এই নির্দেশিকাকে ঘিরে অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, সিবিএসইর মূল নীতিমালায় যেখানে প্রথম পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে দ্বিতীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, সেখানে ফল প্রকাশের আগেই কেন সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে আবেদন করতে বলা হচ্ছে।
অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয় কি নিজস্ব সিদ্ধান্তে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে, নাকি শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ অনুসরণ করছে—তা স্পষ্ট করা হোক। যদি দপ্তরের নির্দেশ থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে, তবে সেই সংক্রান্ত অনুমোদনের নথি প্রকাশ্যে আনার দাবিও উঠেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন শিক্ষা দপ্তরের স্পষ্ট ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন অভিভাবকরা। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছেন অভিভাবকরা।
এদিকে সিবিএসই ১৭ই মার্চ জারি করা নোটিশে উল্লেখ করেছে, ১৮ই মার্চ থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত প্রথম ধাপে ফর্ম ফিলাপ করার জন্য সিবিএসই নির্দেশিকা জারি করেছে। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, যারা প্রথম ধাপে ফর্ম ফিলাপ করবে না, সেই সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর ৫ দিনের মধ্যে ফর্ম ফিলাপ করতে পারবে। অন্যথায় ৬ দিনের মাথায় ফর্ম ফিলাপ করলে ২ হাজার টাকা ফাইন দিয়ে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে। তবে যেহেতু ফর্ম ফিলাপ এক ক্লিকেই করা সম্ভব, তাই ৫ দিনে তা যথাযথভাবেই করা সম্ভব বলে শিক্ষকমহলের দাবি। তাই ঝুঁকির কিছু নেই। কিন্তু বর্ধিত ফি কোনভাবেই নেওয়া যায়না বলেও তাদের দাবি। ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে শিক্ষা দপ্তরের স্পষ্টীকরণের অপেক্ষায় অভিভাবকমহল।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*