আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৬ এপ্রিল || ২০২৩ সালে অবৈধভাবে গঠিত লেক চৌমুহনী বাজার কমিটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ অবশেষে প্রকাশ্যে এল বাজার ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদে। কমিটির নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি ব্যবসায়ীরা মেয়রের দ্বারস্থ হন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বর্তমান বাজার সম্পাদক তপন মালাকারের নেতৃত্বে অবৈধভাবে দোকানঘর বসানো, অর্থ লেনদেনে অনিয়মসহ একাধিক দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগ জানাতে দু’দিন আগে তারা মেয়রের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার লেক চৌমুহনী বাজার পরিদর্শনে যান মেয়র দীপক মজুমদার। সেখানে তিনি সরাসরি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বক্তব্য শোনেন। অধিকাংশ ব্যবসায়ীই বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
এদিন মেয়র বলেন, বাজার কমিটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ইতিমধ্যেই কয়েকবার বাজার পরিদর্শন করেছেন এবং অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। শুধু ব্যবসায়ীরাই নয়, স্থানীয় বাসিন্দারাও বাজারের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।
মেয়র আরও বলেন, “বাজারকে যেমন পরিষ্কার রাখা হবে, তেমনই বেআইনি কাজকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যাতে কোনোভাবে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা হবে। নতুনভাবে দোকানঘর বণ্টন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় করা হবে এবং পুরনো কমিটির তালিকার ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মেয়র পুরনো কমিটি ভেঙে দিয়ে ১৫ সদস্যের একটি অস্থায়ী কমিটি গঠন করেন। এই কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন গৌতম সরকার, উৎপল আচার্য, লিপিকা দেব, পোলেস্টার ক্লাবের পীযূষ কান্তি দে, রাধানগর উন্নয়ন সংঘের ঝুটন লস্কর এবং হারাধন সংঘের অনুপম দে।
মেয়র জানান, শীঘ্রই ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নতুন বাজার কমিটি গঠন করা হবে।
এছাড়াও, নবগঠিত কমিটির সদস্যদের সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “এই কমিটি যেন স্বচ্ছভাবে কাজ করে এবং ভবিষ্যতে কোনো বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ না ওঠে, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।”
লেক চৌমুহনী বাজারের এই পদক্ষেপে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তির বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
