SIRO স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরা — গবেষণায় নতুন দিগন্তের সূচনা

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০২ মে || ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করল Techno India University, Tripura। ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ Department of Scientific and Industrial Research বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘Scientific and Industrial Research Organisation (SIRO)’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। এই অর্জন শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই নয়, গোটা রাজ্যের শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থার জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের শীর্ষ গবেষণা-ভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান করে নিল। এর মাধ্যমে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে, পাশাপাশি উচ্চ-প্রভাবশালী আন্তঃবিভাগীয় গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথও প্রশস্ত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বীকৃতি National Education Policy 2020-এর লক্ষ্য পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, SIRO স্বীকৃতি মূলত উন্নত পরিকাঠামো, উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য উদ্ভাবনী সক্ষমতারই স্বীকৃতি। এর ফলে ত্রিপুরা রাজ্যও দেশের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে আরও শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সাফল্য প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর সত্যম রায় চৌধূরীর দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার সঙ্গে শিল্পমুখী গবেষণার সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে আসছেন, যার ফলস্বরূপ এই স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, উপাচার্য রতন কুমার সাহা বলেন, “SIRO স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান গবেষণা সক্ষমতারই প্রতিফলন। এটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করবে।” তিনি আরও জানান, এই স্বীকৃতি তাত্ত্বিক শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগের দূরত্ব কমিয়ে আনবে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বর্তমানে টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরা স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি স্তরে বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। নতুন এই স্বীকৃতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি শীর্ষ শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন শিক্ষামহল।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*