গাঁজা গাছ কাটতে গিয়ে পুলিশ ও উত্তেজিত জনতার সংঘর্ষ, জনতার ইট-পাটকেল ও বোমা নিক্ষেপ

IMG-20201218-WA0032আপডেট প্রতিনিধি, বক্সনগর, ১৯ নভেম্বর || গাঁজা গাছ কাটতে গিয়ে পুলিশ ও উত্তেজিত জনতার সংঘর্ষ। পুলিশকে লক্ষ্য করে উত্তেজিত জনতার ইট-পাটকেল ও বোমা নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এর পক্ষ থেকেও কাঁদানো গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনা সোনামুড়া থানাধীন কমলনগর, ঘাঁটিঘর, বিজয় নগরের মাঝামাঝি স্থানে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১০টায় কমলনগর গাটিগড় এলাকায় পুলিশ, বিএসএফ, টি এস আর, নারকেটিস, বক্সনগর বনদপ্তর যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রচুর গাঁজা গাছ ধ্বংস করা হয়। একসময় পুলিশ ঘাঁটি গড় এলাকার গাঁজা গাছ ধ্বংস করতে করতে যখন বিজয় নগর এলাকায় গাঁজা গাছ ধ্বংস করতে যায়, তখন গাজা চাষীরা উত্তেজিত হয়ে যায়। বিজয়নগর ও ঘাটিগর এলাকার মাঝখানে ছিল বিজয় নদী নামে একটি ছড়া। বিজয় নদীর ওপারে ছিল প্রচুর গাঁজা গাছ। যা বিজয় নগর এলাকার উপজাতি জনজাতিরা এই এলাকায় গাঁজা চাষ করে থাকেন। পুলিশ ঘাঁটিগড় এলাকার গাজা গাছ ধ্বংস করার পর যখন বিজয় নগর এলাকার গাঁজা গাছ কাটতে নদী পার হয়ে ওই পারে যাবে আর তখনই উত্তেজিত জনতারা পুলিশকে লক্ষ্য করে অজস্র ভাষায় গালাগালি, চিৎকার করতে থাকে। ইট-পাটকেল ও গোলাল ছুঁড়তে শুরু করে। একসময় গাজা চাষিরা বোমাও নিক্ষেপ করেন,পরবর্তী সময়ে উত্তেজিত জনতার এই ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ছয়টি কাঁদানো গ্যাস তাদের উদ্দেশ্যে গ্রামে নিক্ষেপ করেন। এই কাঁদানো গ্যাসের বিকট শব্দে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়। তবু পুলিশ হাল ছাড়েনি, যখন ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, তারপরেও প্রায় ২০,০০০ টাকার গাঁজা গাছ ধ্বংস করে পুলিশ। জানা যায়, দিনের অভিযানে মোট ২০ প্লট এ প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার গাঁজা গাছ ধ্বংস করা হয়। যার বাজারজাত মূল্য কয়েক লক্ষাধিক টাকা। এদিনের অভিযানে ছিলেন সোনামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বনোজ বিপ্লব দাস, সোনামুড়া থানার ওসি, সপ্তম ব্যাটেলিয়ান টিএসআর জোয়ান, ৭৪নং ব্যাটালিয়ানের বিএসএফ, নারকটিকস এর এসপি সরস্বতী আর্থ তাছাড়া বক্সনগর বন দফতরের কর্মীরা। এ দিনের যৌথ অভিযানে ১০০ থেকে ১২০ জন বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক ও জওয়ানরা ছিলেন। এই বছরের সবচেয়ে ভয়ানক গাঁজা অভিযান হয় শুক্রবার। তাছাড়া দেখা যায় গাঁজার গাছ ধ্বংস করার সাথে সাথে উত্তেজিত জনতা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তবে উত্তেজিত জনতা যেভাবে পুলিশকে আক্রমণ চালাচ্ছিল পুলিশের দুঃসাহসিকতা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সোনামুড়া মহাকুমা পুলিশ কর্তৃক এই ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*