গোপাল সিং, খোয়াই, ০৫ জুন || শনিবার ছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। খোয়াইয়ে নয়টি বাম গণসংগঠনের উদ্যোগে উদযাপন করা হলো দিবসটি। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে এখানে চলে বৃক্ষরোপণ। চারাগাছ রোপন করা হয়। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সি পি আই (এম)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা রাজ্য বামফ্রন্টের আহ্বায়ক বিজন ধর পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে বৃহত্তর গণ- আন্দোলনের রুপ দানের জন্য আহ্বান জানান। এদিনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিজন ধর ও সি পি আই (এম)’র রাজ্য কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য সুখেন্দু বিকাশ দে সি পি আই (এম)’র জেলা কার্য্যালয় চত্বরে দুটি চারাগাছ রোপন করেন। অন্যান্যদের মধ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন জি এম পি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক পদ্ম কুমার দেববর্মা, সি আই টি ইউ রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস, ডি ওয়াই এফ আই-র রাজ্য সভাপতি পলাশ ভৌমিক, কৃষক নেতা আলয় রায়, বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য, মনোজ দাস ও ছাত্র যুবনেতা নারায়ন নম:দাস ও গৌতম পাল প্রমুখ।
নয়টি বাম- গণসংগঠনের মহকুমা ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচ আনুষ্ঠানিক সূচনা করে সংবাদ মাধ্যমের কাছে পরিবেশ দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য্য তুলে ধরেন বিজন ধর। এসময় তিনি বলেন, এবছরের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তাৎপর্য্য বিরাট। কারণ সারা বিশ্বব্যাপী মারণব্যাধি করোনার মহামারী চলছে। এই মহামারী থেকে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট বিষয়টিকে আলাদা করা যাবে না। প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করার কারণেও করোনার বিপজ্জনক ভাইরাস আজকের বিশ্বে আমাদের সামনে চ্যালেন্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকৃতি তার সুনির্দিষ্ট নিজস্ব নিয়মেই চলমান। এই নিয়ম না মেনে মানুষ প্রকৃতিকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করে বলেই আজ আমরা মারাত্মক পরিবেশ দূষণের সম্মুখীন। নানাবিধ রোগবালাই আমাদের জীবনের আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে। ধনী দেশগুলো মুনাফা অর্জন করার স্বার্থে বিভিন্ন সময় প্রকৃতিকে নষ্ট করছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উষ্ণায়ণ ঘটছে। পরিবেশের দূষণ ঘটছে। এর মধ্য দিয়ে গোটা মানবজাতি আজ ধ্বংসের মুখে। ধনী দেশগুলো ভারত সহ তৃতীয় দুনিয়ার দেশগুলোর ওপর নয়া উদারবাদী সাম্রাজ্যবাদী কর্পোরেট আগ্রাসন চাপিয়ে দিয়ে বিষাক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের নির্গমণ ঘটাচ্ছে মুনাফার স্বার্থে। অথচ ভারত তা নীরবে মেনে নিচ্ছে। তিনি বলেন, আজকে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে বৃহত্তর গণ-আন্দোলনের পর্যয়ে নিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে করোনা মহামারী বিরোধী আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা ঠিক হবে না। বিশেষ করে ছাত্র যুবদেরকে এই আন্দোলনে বিশেষ ভাবে সামিল হতে হবে। যার মধ্য দিয়ে বিজ্ঞান মনস্কতা গড়ে তুলে মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
