আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ জুন || ত্রিপুরায় বিগত ৬২ বছরে রেকর্ড বৃষ্টিপাতের মধ্যে শুক্রবারের বৃষ্টিপাত ছিল অন্যতম। এদিন সকাল থেকে টানা বৃষ্টিপাত হয়। আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ১৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে রাজ্যে। এদিন আগরতলা পুর নিগমের তরফে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, আগরতলায় সেন্ট্রাল জোন এলাকায় একনাগাড়ে প্রচুর পরিমানে বৃষ্টিপাতের ফলে শহরের কিছু কিছু এলাকা যেমন ওরিয়েন্ট চৌমুহনি, শকুন্তলা রোড, আর.এম.এস চৌমুহনি, গনরাজ চৌমুহনি, আই.জি.এম চৌমুহনি ও প্যারাডাইস চৌমুহনি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এই জল নিষ্কাশনের জন্য আগরতলা পুর নিগমের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলে হয়, শহরের ১৬টি জল নিষ্কাশনী পাম্প মেশিন সহ মোবাইল পাম্প মেশিনগুলোও চালু রাখা হয়েছে। ত্রিপুরা প্রশাসন এবং আগরতলা পুর নিগমের পক্ষ থেকে মানুষের সাহায্যার্থে অনেকগুলো নৌকা নামান হয়েছে। ওই নৌকায় মানুষের উদ্ধার এবং আটকে পরা মানুষের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। এদিন আটকে পরা একটি বিদ্যালয়ের ৩৭ জন ছাত্রীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে অগ্নি নির্বাপক দপ্তরের কর্মীরা।
কোথাও গাড়ি, মানুষ আটকে পড়লে, জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে রোগী পৌঁছানোর জন্য বা রাস্তায় গাছ ভেঙ্গে পড়লে তা সমাধানের জন্য ১০৭৭ এই টোল ফ্রি নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়াও আগরতলা পুর নিগমের ৯৮৬৩২০১৬৬৫ এই ওয়াটআপ নম্বরে মেসেজ পাঠাতে পারেন। তখন সমস্যা বুঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বিদ্যুত বিপর্যয় ঘটলে সমস্যা সমাধানে বিদ্যুত দপ্তরের ১৯১২ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। এছারাও বিদ্যুত নিগমের ৯৮৬৩৫৯৬০৮১ এই ওয়াটআপ নম্বরে মেসেজ পাঠাতে পারেন।
আগামীকালও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাষ রয়েছে। সমস্ত পুরবাসীকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যেতে অনুরোধ জানিয়েছেন আগরতলা পুর নিগমের কমিশনার ডা: শৈলেশ যাদব।
এদিন মহাকরণে রাজস্ব দপ্তরের তরফেও সাংবাদিক সম্মেলন করে শহরের জলমগ্ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এদিন আগরতলা শহরে জল জমার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইন্দ্রনগরস্থিত আই টি ভবনের কমান্ড কনট্রোল রুমে যান মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। শহরের কোথায় কোথায় এবং কি পরিমাণে জল জমে রয়েছে তা খতিয়ে দেখেন তিনি। একই সঙ্গে জল নিষ্কাশনের বিষয়েও খোঁজ খবর নেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।
