আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।। নেপালের কাঠমান্ডুর রাজপথ ফাটলে চৌচির। বেশির ভাগ বহুতল ভেঙে পড়েছে। প্রকৃতির তাণ্ডবে শহরটা যেন রাতারাতি দু’ভাগ হয়ে গেছে।
যার একটা অংশ মাটির নিচে। অন্যটা তাঁবু খাটিয়ে খোলা আকাশের নিচে। শহরের মাঝখানে প্যারেড গ্রাউন্ডে তাবু খাটানো হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। ভূমিকম্পের ভয়ে বাড়ি ফিরতে চাচ্ছেন না কেউ।
রাস্তায় নেমে আসেন দেশেটির স্বয়ং প্রেসিডেন্টও। রোববার সারারাত তাঁবুর মধ্যেই কাটিয়েছেন নেপালের প্রেসিডেন্ট রামবরণ যাদব। প্রেসিডেন্টের দেড়শ’ বছরের পুরনো দপ্তর-আবাসন ‘শীতল নিবাস’-এ একাধিক জায়গায় ফাটল ধরেছে। প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালার বাসগৃহও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভূমিকম্পে নেপালে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এ পর্যন্ত ৩২১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ৬ হাজারেরও বেশি। সরকারের আশঙ্কা, মৃত্যু ছাড়াতে পারে ১০ হাজার। কারণ এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। খোঁজ নেই কয়েক হাজারের।
আবহাওয়াবিদদের দাবি, বিশেষত দেশটির পূর্ব অংশে আগামী দুদিন ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল ফের তুষার-ধস হয়েছে এভারেস্টে। এ পরিস্থিতিতে ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে নেপাল সরকার।
চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এ দিনের দ্বিতীয় কম্পনের পর আহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। ওষুধপত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পোখরায় চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের বাইরেই। হাসপাতাল ভবনের মধ্যে ঢুকতে ভয় পাচ্ছেন চিকিৎসক-কর্মীরা।
রোববার নতুন করে ভূমিকম্পের পর অবশ্য দীর্ঘক্ষণ বন্ধ রাখা হয়েছিল অসামরিক বিমান পরিষেবা। উদ্ধারকাজ ও ত্রাণের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য চেয়েছে নেপাল।
সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, চীন, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
