সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০৪ আগস্ট || গন্ডাছড়ায় ত্রাণ ও পূনর্বাসন সহায়তার পাশাপাশি উন্নয়নের গতি দ্রুত করার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। গন্ডাছড়া সফরে গিয়ে সরকারের ব্যাপক কর্মপরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। রবিবার তিনি প্রয়াত পরমেশ্বর রিয়াং এর পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলির জন্য তিন কোটি পঞ্চাশ লক্ষ্য বিশ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেন। এছাড়া গন্ডাছড়া মহকুমায় ১৭টি প্রকল্পের জন্য ২৩৯ কোটি ১০ লক্ষ্য টাকার ঘোষণা দেন।
অবিশ্বাস আর প্রতিহিংসার রোষানলে বিধ্বস্ত গন্ডাছড়ায় রবিবার সরকারের নিবিড় ও বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। প্রয়াত পরমেশ্বর রিয়াং এর পরিবারকে দশ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য, ১২ই জুলাইয়ের ঘটনায় সম্পূর্ণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের তিন লক্ষ টাকা সাহায্য, আংশিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতির পরিমাণ অনুযায়ী পঞ্চাশ হাজার টাকা থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাহায্য, চারটি স্থায়ী নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপন সহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ বৃদ্ধির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা প্রথমে গন্ডাছড়া নারায়নপুর বাজারে ক্ষতি গ্রস্ত দোকান গুলি পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে যান প্রয়াত পরমেশ্বর রিয়াংগ এর বাড়ি। কথা বলেন শোক সন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে। তারপর ১২ই জুলাইয়ের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। যান ত্রাণ শিবিরে সেখানে উপস্থিত দুই শিশুর হাতে তুলে দেন স্কুল ব্যাগ। এরপর রেভিনিউ ডাকবাংলো এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলিত হন তিনি। সেখানে তিনি শান্তি, সৌহার্দ ও সম্প্রীতি বজায় রেখে উন্নয়নে গতিশীল করে তুলতে আহ্বান জানান। পাশাপাশি ত্রাণ হিসাবে আর্থিক সাহায্য এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর বিকেল তিনটা নাগাদ অমরপুর হয়ে আগরতলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে অভিযোগ, ১২ই জুলাইয়ের ঘটনায় সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত সাত কার্ড এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে যায় নি প্রশাসনিক আধিকারিকরা। সাধারণ মানুষকে কথা বলতে দেয় নি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। অপরদিকে শরণার্থী শিবিরের অশ্রিতরা বুক বেধে দীর্ঘ সময় ধরে বসে ছিলেন তাদের দুর্দশা কথা মুখ্যমন্ত্রীকে বলবেন কিন্তু সেই সুযোগ টুকু দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। যদিও এদিন একটি দাবি সনদ তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, পুলিশের মহানির্দেশক অমিতাভ রঞ্জন, গোয়েন্দা পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকর, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সচিব প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজস্ব দপ্তরের সচিব ব্রিজেশ পান্ডে, সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের সচিব তাপস রায়, পূর্ত দপ্তরের মুখ্য বাস্তুকার রাজীব দেববর্মা, জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা শুভাশিস দাস, ধলাই জেলার জেলাশাসক সাজু ওয়াহিদ এ, পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ।
