আপডেট প্রতিনিধি, শান্তিরবাজার, ২৪ আগস্ট || শান্তিরবাজার মহকুমার অন্তর্গত কুষারঘাট এলাকাটি পশ্চিম চরকবাই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্ভুক্ত। এই এলাকাটি মুহুরী নদী সংলগ্ন হওয়ায় সম্পূর্ণরূপেই বিধ্বস্ত হয়েছে এই বন্যায়। বন্যা চলাকালীন সময় জাতীয় সড়কের সাথে পরোপুরিভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এই এলাকা। ফলত, এলাকায় নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এমতাবস্থায়, এলাকার শিক্ষক তথা কুষারঘাট তরুণ সংঘের সভাপতি প্রাণজীব সরকার মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান। ওনার সঙ্গ দিতে এগিয়ে আসেন সংস্থার সহ-সম্পাদক শিবু দাস। অন্য সদস্যদের আপ্রাণ চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও বন্যায় আক্রান্ত ছিলেন প্রায় সবাই।
প্রসঙ্গত বলতে হয়, এই এলাকার ১৩১ পরিবারের মধ্যে ১২৭ পরিবারের ৪৬৭ জন লোকই ছিলেন জলবন্দী। বাইরের সাথে এলাকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবার সম্ভাবনা আঁচ করতে পেরে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি ছিলেন সভাপতি প্রাণজীব সরকার। শুধু তাই নয়, প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত শিবিরের সবরকম প্রয়োজন মিটিয়ে যাচ্ছে কুষারঘাট তরুণ সংঘ। ওনাদের এই তৎপরতার খবর পেয়ে সাধুবাদ জানান মহকুমা শাসক অভেদানন্দ বৈদ্য। তিনি বন্যা পরবর্তিতে সাধারণ মানুষের অসামান্য ক্ষয়-ক্ষতি খতিয়ে দেখে পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
বন্যার জল নেমে যেতে শুরু করলে সংস্থার সদস্যরা এলাকা ঘুরে দেখেন। তাঁদের নজরে যে চিত্র ফুটে ওঠে তা হল, এলাকার প্রায় সব ক’টি ঘর-বাড়ি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি পরিবার মূলত কৃষি নির্ভর হওয়ায় ঘরে সঞ্চিত সমস্ত ধান-চাল নষ্ট হয়ে যায়। বেশকিছু গরু, ছাগল, হাঁস, মোরগ ঘরের ভেতর মাটি চাপা পড়ে মরে যায়। কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায় বন্যার জল। কিছু গবাদি পশু উদ্ধার করা গেলেও বর্তমানে ভয়াবহ খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। প্রতিটি বাড়ির সঞ্চিত খর পঁচে গলে নষ্ট হয়ে গেছে। এই ভয়ানক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে গরু, ছাগল নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বাঁচতে চেষ্টা করছেন কিছু কিছু মানুষ।
তাছাড়া, এলাকার উপর দিয়ে মুহুরী নদীর জলস্রোত গড়িয়ে যাওয়ায় অসম্ভব পরিমাণে পলি মাটির স্তর বসে গেছে ধানের জমি, রাস্তা-ঘাট ও প্রতিটি বাড়ির উঠোন থেকে ঘরের ভেতর। প্রতিটি ঘরের আসবাব পত্র হয় মাটি চাপায় তলিয়ে গেছে না হয়, ভেসে গেছে জলে। নিকটবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার জমি ভেঙে নিয়ে গেছে নদী। কিছু জমি নদীর চরে পরিণত হয়েছে। আর বাদবাকি জমি বালুর তলায় চলে যাওয়ায় মালিক তার সীমানা হারিয়েছেন। এমন কি, জমির এই ভয়ানক রূপ দেখে বোঝা যায় জরিপ করেও মালিকানা নির্ধারণ সম্ভব কিনা, তা অত্যন্ত সন্দেহজনক।
এক দিকে এলাকার প্রতিটি ঘরে সঞ্চিত ধান-চাল ও অন্য দিকে জমিতে লাগানো ধান, সব্জি সব নষ্ট হওয়ায় এখন থেকেই চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া, এলাকার পানীয় জলের সমস্ত উৎস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে পানীয় জলের তীব্র সংকট। এলাকার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে পঁচা-গলা দুর্গন্ধ। বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে বিদ্যুৎ পরিষেবা। যদিও, জল নেমে যাওয়া শুরু হলে প্রত্যেকেই শিবির থেকে খাওয়া- দাওয়ার পর ঘর-বাড়ি পরিস্কার করার কাজে চলে যায় এবং আবার শিবিরেই ফিরে আসে। তবুও, প্রত্যেকের মনে একটাই প্রশ্ন, বাড়ি ফিরে যাবার পর তাদের কী হবে ?
