খোয়াইয়ে ৭২ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়ের

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৪ মার্চ || খোয়াই থানাধীন জাম্বুরা এলাকার বাসিন্দা বিধান চন্দ্র দাস এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৭২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। রবিবার রাতে খোয়াই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন এবং তার অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিধান বাবুর অভিযোগ অনুযায়ী, খোয়াই গণকী এলাকার বাসিন্দা তাপস শুক্লদাস (পিতা: হারাধন শুক্লদাস), পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ইন্সুরেন্স এজেন্ট বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে মোট ৭২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শুরুতে ৫ লক্ষ, পরে ১৫ লক্ষ, এভাবে বিভিন্ন কিস্তিতে টাকা নিয়ে ইন্সুরেন্সে বিনিয়োগের নামে তাকে প্রতারিত করা হয়েছে। তাপস শুক্লদাস প্রথম দিকে কিছু রিটার্ন দিলেও গত ২০ মাস ধরে কোনো টাকা ফেরত দেননি। বিধান বাবুকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে আমানতের ওপর প্রতি মাসে ২% সুদ প্রদান করা হবে। সামান্য লাভের আশায় তিনি নিজের জমি, দোকান-ঘর বিক্রি করে এই টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু দীর্ঘ ২০ মাস ধরে কোনো টাকা না পাওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে চরম বিপদে পড়েছেন। বর্তমানে তার সন্তানের পড়াশোনা ও নিজের চিকিৎসার জন্য টাকা দরকার, যা না থাকায় তিনি বাধ্য হয়ে আইনের সাহায্য নিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিধান বাবু জানান, তাপস শুক্লদাস খোয়াইয়ের আরও অনেক মানুষকেও একইভাবে প্রতারণা করেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন প্রভাবশালী চিকিৎসক ও সমাজসেবী ডাঃ রাণা বর্মন, প্রাক্তন শিক্ষক সুপ্রীয় দেব সরকার এবং বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য প্রমুখ। যদিও পরিচিতি ও সামাজিক মর্যাদার কারণে তারা প্রকাশ্যে কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি বলে বিধান বাবু দাবি করেছেন। বর্তমানে তাপস শুক্লদাস পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের আগরতলা শাখায় কর্মরত বলে জানা গেলেও, বিধান বাবু তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ফোন কলের কোনো উত্তর না পাওয়ার পাশাপাশি তিনি ব্যাঙ্ক শাখায় গিয়েও তাপস শুক্লদাসের কোনো হদিশ পাননি। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বিধান বাবুকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বর্তমানে এই প্রতারণা মামলাটি নিয়ে খোয়াই শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানালেন বিধান চন্দ্র দাস।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*