খোয়াইতে গেস্ট হাউসে নাটকীয় অভিযান, রহস্যময়ী যুবতীকে ঘিরে তোলপাড়, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৮ জুন || খোয়াই শহরের একটি গেস্ট হাউসে এক যুবতীর রাত্রিবাসকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশি অভিযান, মালিক ও চালককে আটক এবং অবশেষে রহস্যময়ী যুবতীর উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুরো বিষয়টি নিয়ে জনমনে তীব্র সন্দেহ দানা বেঁধেছে।
ঘটনাটি ঘটে খোয়াই থানাধীন সুভাষ পার্ক কালীবাড়ি রোডের একটি গেস্ট হাউসে। অভিযোগ, গতকাল রাতে মুর্শিদ মিয়া নামে এক গাড়িচালক এক যুবতীকে নিয়ে ওই গেস্ট হাউসে আসেন। কিন্তু রেজিস্টারে নাম নথিভুক্ত না করেই যুবতীকে সেখানে রাখা হয় বলে খবর পেয়ে খোয়াই থানার পুলিশ হানা দেয়। এই ঘটনায় গেস্ট হাউসের মালিক অজয় দত্ত এবং চালক মুর্শিদ মিয়াকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে গেস্ট হাউসের মালিক অজয় দত্তের দাবি, “অনেক রাতে চালক মেয়েটিকে নিয়ে আসে এবং জানায় যে, সে সকালে কমলপুর চলে যাবে। আমি তাঁর আধার কার্ড ও প্যান কার্ড দেখেছি, কিন্তু রাত বেশি হওয়ায় জেরক্স করা সম্ভব হয়নি।” তিনি আরও জানান, রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ পুলিশ এলে তিনি বিষয়টি জানান। পুলিশ সকালে আসবে বলে চলে যায়। কিন্তু পুলিশের আনাগোনা দেখে আতঙ্কিত হয়ে যুবতীটি কাউকে কিছু না বলেই সকালে চুপচাপ গেস্ট হাউস থেকে চলে যায়। সকালে পুলিশ ফের এসে মেয়েটিকে না পেয়ে মালিক ও চালককে থানায় নিয়ে যায়। পরে মালিক হোয়াটসঅ্যাপে মেয়েটির আধার ও প্যান কার্ডের ছবি দেখালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অপরদিকে এই নাটকের যবনিকাপাত হলেও, ঘটনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোয়াইয়ের জনগণ। প্রথমে ওই যুবতীকে ‘বাংলাদেশী’ বলে গুজব ছড়ানো হলেও, পরে তাঁর ভারতীয় পরিচয়পত্র সামনে আসে। তবে জনগণের একাংশের অভিযোগ, খোয়াইয়ের বহু গেস্ট হাউসে পুলিশের সঙ্গে ‘বোঝাপড়া’র মাধ্যমে অবৈধ কারবার চলে। আজকের ঘটনাতেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে অনেকেই বলছেন, “ডাল মে কুছ কালা হ্যায়”! পরিচয়পত্র যাচাই না করে এবং রেজিস্টারে নাম না তুলে কেন একজন অতিথিকে থাকতে দেওয়া হলো, সেই প্রশ্নও উঠছে। যদিও জনগণের দাবি পেন কার্ড ও আধা কার্ড স্ক্যান করলেই মহিলার আসল তথ্য প্রকাশিত হবে।
এই ঘটনা খোয়াই পুলিশের ভূমিকা এবং শহরের গেস্ট হাউসগুলির কার্যকলাপকে আবারও আতস কাঁচের নীচে এনে দাঁড় করিয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*