সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৮ জুন || ধলাই জেলার ডুম্বুর জলাশয়ের মনোরম পরিবেশে রাজ্য পর্যটন দপ্তরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘মনসুন ম্যাঙ্গো ফিয়েস্টা ২০২৫’। শনিবার সকালে উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়িকা নন্দিতা দেববর্মা রিয়াং, টিটিএএডিসি’র এমডিসি ভূমিকা নন্দ রিয়াং, পর্যটন দপ্তরের সচিব ইউ কে চাকমা, ধলাই জেলা পরিষদের সভাধিপতি সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।
পর্যটন ও কৃষিকে একসঙ্গে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমী উৎসবের আয়োজন। উৎসবে স্থানীয় আম চাষিদের উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আম প্রদর্শন করা হচ্ছে। জাপানের মিয়াজাকি, থাইল্যান্ডের থাই রাইটি, চায়নার চায়না ভ্যারাইটি, বাংলাদেশের হাড়িভাঙ্গা, ভারতের মল্লিকা, কিউজ্যাই, সূর্য ডিম, বাড়িফুল, রেড পাল্মার ইত্যাদি নানা স্বাদের এবং গুণগত মানসমৃদ্ধ আম দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।
উৎসব উপলক্ষে নারিকেল কুঞ্জ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি রাজ্যের বাইরের শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করেছেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ফুটে উঠেছে ত্রিপুরার লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য।
উৎসবের শুভ উদ্বোধনে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, “ডুম্বুর জলাশয় ও নারিকেল কুঞ্জ ত্রিপুরার এক অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ। রাজ্য সরকার এই স্থানকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে স্থান দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ব্র্যান্ডিং-এর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “যেমন প্রধানমন্ত্রী দেশের নিরাপত্তা ও পর্যটন বিকাশে একযোগে কাজ করছেন, তেমনি ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মতো উদ্যোগ দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের প্রতীক।”
উৎসব ঘিরে পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। ডুম্বুর জলাশয়ে নৌবিহারের আয়োজন, নারিকেল কুঞ্জের শ্যামল প্রকৃতি ও স্থানীয় আতিথেয়তায় ভরপুর পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করছে।
এদিকে, উৎসবের মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে স্থানীয় মহকুমা সাংবাদিকদের অবহেলা করা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাংবাদিক মহলের একাংশের অভিযোগ, এত বড় সরকারি অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে উপেক্ষা করা দুঃখজনক ও অপমানজনক। জানা যায়, লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে আয়োজিত এই উৎসবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি গন্ডাছড়া মহকুমা সাংবাদিকদের।
তাঁদের প্রশ্ন, “মাঠে নেমে কাজ করা মহকুমা সাংবাদিকরা কি শুধুই অবহেলার পাত্র? প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে কি তাদের আর কোনো মূল্যই রইল না?” এই ঘটনায় প্রশাসনিক আচরণ নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
‘মনসুন ম্যাঙ্গো ফিয়েস্টা ২০২৫’ নিঃসন্দেহে রাজ্য সরকারের এক যুগান্তকারী প্রয়াস। এই উৎসবের মাধ্যমে রাজ্যের কৃষি, সংস্কৃতি ও পর্যটন এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে। তবে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি অবহেলা যে এই সাফল্যের ছবিতে এক কালো দাগ টেনে দিল, তা অস্বীকার করা যায় না।
