গোপাল সিং, খোয়াই, ০৮ সেপ্টেম্বর || ‘আমরা বাঙালি’ দল এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ১৯৮০ সালের গণহত্যা এবং পরবর্তীকালে মানিক সরকারের আমলে অপহরণ, খুন ও বাঙালি মহিলাদের উপর পাশবিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলের রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল অভিযোগ করেছেন যে, ১৯৭৮ সালে বামফ্রন্ট সরকার গঠনের পর থেকেই বাঙালিদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু হয়।
তিনি বলেন, ১৯৮০ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি পূর্ণ সূর্যগ্রহণের দিন বিজয় রাঙ্খলের নেতৃত্বে আগরতলায় গোপন বৈঠক হয়, যেখানে ১৯৮০ সালের গণহত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এরপর ৬ই জুন উপজাতি যুব সমিতির ডাকা বাজার বয়কট আন্দোলন চলাকালীন আগরতলার অদূরে লেন্বুছড়ায় একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে বাঙালি নিধন যজ্ঞ শুরু হয়। এই গণহত্যা দ্রুত পশ্চিম ত্রিপুরা সহ রাজ্যের বিভিন্ন মিশ্র বসতি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে হাজার হাজার নিরীহ বাঙালি নিহত হন এবং শত শত মা-বোনের উপর পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের ভূমিকারও সমালোচনা করেন গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল।
‘আমরা বাঙালি’ দল অভিযোগ করেছে যে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তী এবং পরবর্তীকালে মানিক সরকারের আমলে এই গণহত্যার কোনো তদন্ত হয়নি এবং অপরাধীরা শাস্তি পায়নি। তারা বলেন, এমনকি তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জৈল সিং ত্রিপুরার গণহত্যার তীব্রতা ইহুদি গণহত্যার চেয়েও বেশি বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করে যে, জোট সরকার ক্ষমতায় আসার জন্য বাঙালি গণহত্যার মূল নায়ক বিজয় রাঙ্খলের সাথে আঁতাত করে কোটি কোটি টাকা ও সরকারি পদ দিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বিজেপি তাদের ভিশন ডকুমেন্টে এই গণহত্যার তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিলেও, সাত বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
‘আমরা বাঙালি’ দলের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, ৮০ সালের গণহত্যায় জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মাথাপিছু ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে স্বস্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। ‘আমরা বাঙালি’ দল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভোট কুড়ানোর জন্য লোক দেখানো আশ্বাস নয়, বরং প্রকৃত বিচার ও ক্ষতিপূরণ তাদের মূল দাবি।
