গোপাল সিং, খোয়াই, ১৩ সেপ্টেম্বর || খোয়াই ডিরোজিও মিশন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র স্বপ্ননীল দাসের ‘নিখোঁজ’ কাণ্ড ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। প্রাথমিকভাবে অপহরণের অভিযোগে শহরজুড়ে তোলপাড় হলেও, তদন্ত শেষে প্রকাশ্যে এলো অবাক করা সত্য। জানা গেছে, পুরো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এক নাটক—যার নেপথ্যে ছিলেন স্বপ্ননীলের পুলিশ কনস্টেবল পিতা শ্রীকান্ত দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে গোটা শহর ও গণমাধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়। অভিযোগ, খোয়াই পুলিশ প্রশাসনের একাংশও ঘটনাটিকে আড়াল করে রাখে এবং লোক দেখানো তদন্ত চালিয়ে যায়। অবশেষে শুক্রবার রাতে সুভাষপার্ক ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ওসি রঞ্জিত সরকার সাংবাদিক সম্মেলনে জানান—স্কুলকে বদনাম করা এবং পূর্ব শত্রুতার জেরেই অভিভাবকেরা এই চক্রান্ত করেছিলেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ২৭ হাজার টাকার বকেয়া ফি শোধ হয়নি। একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও অর্থ পরিশোধ না করায় পরিবার স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিল। এ ছাড়া কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তে উঠে আসে, স্বপ্ননীল কোনও অপহরণ কিংবা নিখোঁজ হয়নি। বরং খোয়াইয়ের বাগানবাজার এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে গোপনে রাখা হয়েছিল তাকে। অভিযোগ অনুযায়ী, ছেলেকে আত্মগোপনে থাকতে তার পিতামাতাই নির্দেশ দেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছে সোনাতলার বিশ্বজিৎ দেব, চরগণকীর দীপক দাস, মা নন্দিতা ভট্টাচার্য এবং পিতা শ্রীকান্ত দাসের। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সকলে সমানভাবে সহযোগিতা করেছেন। আরও কয়েকজন সহযোগীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
অবশেষে স্বপ্ননীলকে উদ্ধার করে আদালতে পেশ করা হয় এবং পরবর্তীতে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে এই ঘটনার জেরে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে খোয়াই পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। কেন প্রকৃত তথ্য জানা সত্ত্বেও পুলিশের পক্ষ থেকে ২ দিন সময় নেওয়া হলো? জনগণের আশঙ্কা—পুলিশ কর্মী পিতার পরিকল্পনায় প্রশাসনের কিছু অংশও কি জড়িত ছিল?
ত্রিপুরার মানুষ এখন আলোচনা করছেন—বিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করতে অভিভাবকের এমন চক্রান্ত এর আগে শোনা যায়নি। আর তাতেই কাঠগড়ায় উঠেছে পুলিশের ভাবমূর্তি।
