গোপাল সিং, খোয়াই, ০৪ নভেম্বর || ত্রিপুরা-বাংলাদেশ সীমান্তে আবারও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা। রণংদেহি রূপ নিল জনগণ। অবৈধ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের জেরে তিন বাংলাদেশী চোরের মৃত্যুর পর আজ দুই বাংলাদেশী নাগরিককে গণপিটুনি দিল উত্তপ্ত জনতা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খোয়াই মহকুমার চাম্পাহাওর থানাধীন বাচাইবাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি প্রায় ভয়াবহ রূপ নেয়। স্থানীয়রা আশারামবাড়ি সীমান্ত দিয়ে খোয়াইমুখী একটি ইকো গাড়ি (নম্বর TR08 0690) আটক করে ভাঙচুর চালায়। গাড়িতে থাকা দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গণপিটুনি দেয় ক্ষুব্ধ জনতা।
আহত দুই বাংলাদেশির নাম সঞ্জয় সরকার (কুমিল্লা, বাংলাদেশ) ও বিকাশ দাস (২৯, কুমিল্লা, বাংলাদেশ)। গুরুতর অবস্থায় তাদের খোয়াই জেলা হাসপাতাল হয়ে জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। স্থানীয় দুই গাড়ি চাললকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বাংলাদেশিরা আশারামবাড়ি সীমান্ত পেরিয়ে এক দালাল চক্রের সহযোগিতায় খোয়াই শহরে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। জনগণের সন্দেহ হলে গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়, পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
চাম্পাহাওর থানার ওসি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও, তিনিও গণবিক্ষোভের মুখে উত্তপ্ত জনতার হাতে আক্রান্ত হন। এই খবর পেশে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে যান খোয়াই মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডি. কুদিয়ারাসু, খোয়াই থানা ওসি কৃষ্ণধন সরকার সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তে বিএসএফ ও পুলিশের নির্লিপ্ততায় প্রতিদিনই বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে প্রবেশ বাড়ছে। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, টাকার বিনিময়ে সীমান্তে চোখ বন্ধ করে থাকছে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী। এদিকে, স্থানীয়দের দাবি— বিষয়টি এখন আর শুধু অনুপ্রবেশ নয়, বরং সীমান্তে সক্রিয় দালাল ও পাচার চক্রের বড় লেনদেনের সঙ্গে জড়িত।
ঘটনা ঘিরে খোয়াই জেলায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সচেতন মহলের মতে, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে সাধারণ মানুষ, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে এবং পরিস্থিতি বিপজ্জনক দিকে মোড় নিতে পারে। বর্তমানে চাম্পাহাওর থানার পুলিশ দুই বাংলাদেশি ও দুই স্থানীয় গাড়ি চালকদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। তবে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে— “প্রতিদিনই যদি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঘটে, তবে বিএসএফ ও প্রশাসন ঠিক কী করছে?”
