তিপ্রাসাদের অধিকারের লড়াইয়ে একতার ডাক— স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে ওয়ান নর্থ ইস্ট থানসা র‌্যালিতে প্রদ্যুতের বার্তা

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ নভেম্বর || রাজধানী আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে আয়োজিত ওয়ান নর্থ ইস্ট থানসা র‌্যালিতে ঐক্যের শক্তিকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা ও দলের প্রাক্তন সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ কিশোর দেব বর্মণ। উত্তর-পূর্ব ভারতের জনজাতিদের স্বার্থরক্ষায় আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর একজোট হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “একসাথে চললেই অধিকার আদায় সম্ভব। বিভক্ত থাকলে কেউই লাভবান হবে না।”
এদিন প্রদ্যোৎ দেব বর্মণ জানান, আগরতলায় এই জনসমাবেশ আয়োজন করতে গিয়ে নানা প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হলেও মানুষের বিপুল সমাগম তাদের লড়াইয়ে নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য— উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য আজ তিপ্রাসাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। নাগাল্যান্ড, মেঘালয়, অসম, দার্জিলিং, অরুণাচল প্রদেশ ও সিকিম— সকলের উপস্থিতি এদিনের সভায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জনমঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, জনজাতিদের আর্থসামাজিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও তাদের মনোবল অটুট। “অর্থ না থাকলেও আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। নর্থ ইস্ট মঞ্চ আজ জনজাতিদের হাতে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম,”— বলেন তিনি। তাঁর দাবি, সংবিধানসম্মত পথেই তিপ্রাসাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন এগোবে, এবং একদিন গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের দাবি বাস্তবায়িত হবে।
আইপিএফটি-র উদ্দেশে প্রদ্যোত দেববর্মার আহ্বান— জনজাতিদের বৃহত্তর স্বার্থে তিপ্রা মথার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এখনই। “একসঙ্গে লড়লে শক্তি বৃদ্ধি পাবে, আলাদা লড়াই করলে আঞ্চলিক দলের অস্তিত্ব ক্ষয়ে যায়,”— মন্তব্য তাঁর।
সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদ্যোৎ কিশোর দেব বর্মণ একতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, অতীতে অনেক ভুল বোঝাবুঝি ও বিভাজন জনজাতিদের পিছিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আজ থানসা— অর্থাৎ একতার স্পিরিট— গোটা উত্তর-পূর্বকে একটি সুসংহত শক্তিতে পরিণত করছে। “আগামী দিনে নর্থইস্ট থানসা ওয়ান করে ছাড়বো,”— দৃঢ় ঘোষণা তাঁর।
এদিনের র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কর্নাড কে সাংমা, এনপিপি ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট জেমস্ পি কে সাংমা, আসামের পিপলস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ডেনিয়াল লাংথাসা, মণিপুরের প্রবীণ নেতা আর. কে. মেঘনসহ তিপ্রামথার রাজ্য নেতৃত্ব। তাঁদের উপস্থিতি উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেও একটি মানবিক মুহূর্ত উঠে আসে যখন প্রদ্যোত দেববর্মা স্মরণ করেন ২০০৬ সালের ২৭শে নভেম্বর— একই প্রাঙ্গণে তাঁর পিতা মহারাজা কিরিট বিক্রম মণের দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। আবেগঘন সেই স্মৃতিচারণ উপস্থিত মানুষের মন ছুঁয়ে যায়।
সার্বিকভাবে, ওয়ান নর্থ ইস্ট থানসা র‌্যালি ত্রিপুরায় এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা রেখে গেল— বিভেদের নয়, বরং সংহতির ডাক; লড়াইয়ের নয়, বরং অধিকার আদায়ের যৌথ পথরেখা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*