সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৯ ডিসেম্বর || উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ত্রিপুরার মেধাবী ছাত্র এঞ্জেল চাকমাকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দোষীদের ফাঁসির দাবিতে ত্রিপুরার সর্বত্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। তারই অঙ্গ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় গণ্ডাছড়া মহকুমায় ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের উদ্যোগে এক বিশাল ক্যান্ডেল র্যালি বা মোমবাতি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন গণ্ডাছড়া বাজার এলাকার প্রধান সড়কগুলি পরিক্রমা করে প্রতিবাদী মিছিলটি। হাতে জ্বালানো মোমবাতি ও মুখে তীব্র প্রতিবাদী স্লোগানে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এঞ্জেল চাকমার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অভিভাবকদের চোখে-মুখে ছিল গভীর শোক ও উদ্বেগের ছাপ। তাঁদের বক্তব্য, উচ্চশিক্ষার জন্য ভিন রাজ্যে গিয়ে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়ে এক মেধাবী ছাত্রের প্রাণ ঝরে যাওয়া গোটা দেশের জন্য লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনা।
প্রতিবাদী মিছিল থেকে যে দাবিগুলি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়, সেগুলি হল—
ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে এঞ্জেল চাকমার হত্যাকারীদের বিচার করে অবিলম্বে ফাঁসির ব্যবস্থা করতে হবে।
ভিন রাজ্যে অধ্যয়নরত ত্রিপুরার ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকারকে কঠোর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এই ঘটনায় পুলিশের কোনো ধরনের গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
মিছিল শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান, এঞ্জেল চাকমা শুধু একটি পরিবারের সন্তান নন, তিনি ছিলেন গোটা ত্রিপুরা রাজ্যের গর্ব। তাঁর নৃশংস হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে ছাত্র সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
গণ্ডাছড়ার সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও প্রতিবাদ প্রমাণ করে, এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের মানুষ শান্ত হবে না।
