গোপাল সিং, খোয়াই, ২৭ জানুয়ারি || তেলিয়ামুড়া মহকুমার ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চামপ্লাই নয়া বাড়ি এলাকায় রাস্তার ভাঙন রোধে প্রায় ১ কোটি টাকা বরাদ্দে বোল্ডার বসানোর কাজ শুরু হতেই তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পে ব্যবহৃত বোল্ডার অত্যন্ত নিম্নমানের। কাজ চলাকালীনই হাতে সামান্য চাপ দিলেই বোল্ডার ভেঙে পড়ছে বলে দাবি করছেন তাঁরা। এমন পরিস্থিতিতে বর্ষা এলে এই বোল্ডার দিয়ে রাস্তার ভাঙন রোধ করা আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি অর্থের চরম অপচয় করা হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পুরো কাজ ধসে পড়তে পারে, ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই কাজের নেপথ্যে দুর্নীতির যোগসাজশ নিয়ে। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, শাসক দলের কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, ঠিকাদার ও সরবরাহকারীদের মধ্যে বোঝাপড়ার মাধ্যমেই ইচ্ছাকৃতভাবে নিম্নমানের বোল্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা যায়।
কাজের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন শ্রমিক ও কর্মীরাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ব্যবহৃত সামগ্রী যে খুবই খারাপ মানের, তা তাঁদের কাছেও স্পষ্ট। তবে ঊর্ধ্বতন নির্দেশের কারণে তারা মুখ বুজে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যে রাস্তা রক্ষার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে, সেই কাজ যদি শুরুতেই টেকসই না হয়, তবে এই বিপুল অর্থ আসলে কার স্বার্থে ব্যয় হচ্ছে? প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা কি বিষয়টি জেনেও নীরব থাকবেন, নাকি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন?
চামপ্লাই নয়া বাড়ির মানুষ এখন একটাই দাবি তুলেছেন—অবিলম্বে এই নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করা হোক এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। নচেৎ এই প্রকল্পও “কাগজে-কলমে উন্নয়ন”-এর তালিকায় যুক্ত হয়ে দুর্নীতির আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
