গোপাল সিং, খোয়াই, ১৯ মার্চ || আজ যেখানে খোয়াই শহীদ ভগৎ সিং জিমনেশিয়াম, সেখানে একসময় ছিল ‘লোহা ক্লাব’। এর পাশেই অবস্থিত শহীদ ভগৎ সিং পার্কটি যেখানে গড়ে উঠেছে, সেখানে একসময় ছিল পরাধীন ভারতে ‘চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনে’র মুল বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেন—এর শহীদ বেদী। এবং সেই শহীদ বেদী’র নীচে লেখা ছিল — “দাঁড়াও পথিক বর, দেখো একবার, এখানে ঘুমিয়ে আছে, সন্তান মোর মার”। তৎকালীন এসডিও স্বরজিৎ চক্রবর্তী’র তত্বাবধানে ১৯৭৪-৭৫ সালে এই শহীদ বেদী স্থাপন হয়েছিল এখানে। কিন্তু পূর্বতন নগর পঞ্চায়েতের জ্ঞাতসারেই সংস্কৃতির শহরে শহীদ ভগৎ সিং পার্কের নীচেই চাপা পড়ে যায় মাস্টার দা সূর্য সেনের শহীদ বেদীটি। জনগণের দাবি, সংস্কৃতির শহর কিংবা আধুনিক শহরে রূপান্তরিত হতে চলা খোয়াইয়ের বুকে মহান বিপ্লবী ফিরে পাক তাঁর সম্মান। ‘চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন’-এর মতো ঐতিহাসিক বিপ্লবের সাথে ত্রিপুরা’র নামও জড়িত সুনামের সাথে।
ত্রিপুরার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্র লাল সিংহ সরাসরি এই চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনে ভুমিকা পালন করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে মাস্টার দা সূর্য সেন ত্রিপুরা তথা খোয়াইবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। আর গর্বকে মাটি চাপা দিয়ে রাখাটা কতটা যুক্তিযুক্ত? প্রশ্ন জনগণের। খোয়াইয়ের ইতিহাস জানেন এমন ব্যক্তিত্বদের মধ্যে কিন্তু এবিষয়ে জোর জল্পনা চলছে।
আর জল্পনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার খোয়াই শহীদ ভগৎ সিং জিমনেশিয়ামের পাশে অবস্থিত শহীদ ভগৎ সিং পার্কের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করলেন খোয়াই পুর পরিষদের উপ-কার্যনির্বাহী আধিকারিক অরুণ দেবনাথ এবং খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন দেবাশীষ নাথশর্মা। শহীদ ভগৎ সিং পার্ককে ওল্ডেজ্ পার্ক হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আজ এই কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করলেন তারা।
