আপডেট প্রতিনিধি, ইম্ফল, ২১ মার্চ || সেন্ট্রাল এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি -এর উদ্যোগে আয়োজিত হতে চলেছে “এগ্রিভিশন — কৃষি-যুব সংসদ ২০২৬”, যার মূল প্রতিপাদ্য “উত্তর-পূর্ব ভারতের ভবিষ্যৎ কৃষি: টেকসই উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনা”। এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা শাখা বিভিন্ন আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে গত সতরেই মার্চ থেকে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুব সমাজকে কৃষিক্ষেত্রে নতুন চিন্তাভাবনা, প্রযুক্তি নির্ভরতা এবং উদ্ভাবনী ধারণার দিকে উৎসাহিত করা হবে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করে তোলার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই উপলক্ষে প্রকাশিত “প্রশাসন থেকে জলচাষ: এক জৈব-নির্মাতার অনন্য যাত্রা” শীর্ষক প্রবন্ধটি বিশেষভাবে সাড়া ফেলেছে। প্রবন্ধে এক উদ্যোক্তার অনুপ্রেরণামূলক জীবনকাহিনি তুলে ধরা হয়েছে, যিনি দীর্ঘদিন প্রশাসনিক পরিষেবায় কাজ করার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে এগিয়ে গিয়ে জলচাষভিত্তিক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।
উক্ত উদ্যোক্তা “ইমেজ মুক্তো” নামে এক অভিনব ধারণার জন্ম দিয়েছেন। এই পদ্ধতিতে জীববৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্তোর ভেতরে বিশেষ নকশা বা প্রতীক সৃষ্টি করা হয়। ফলে মুক্তো কেবল অলংকার হিসেবেই নয়, বরং ব্যক্তিগত স্মৃতি, সংস্কৃতি ও আবেগের বাহক হিসেবেও বিশেষ গুরুত্ব পায়। উদাহরণস্বরূপ, বিবাহবার্ষিকী বা ধর্মীয় প্রতীকযুক্ত মুক্তো মানুষের কাছে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
তবে এই প্রযুক্তির বাস্তবায়ন মোটেই সহজ ছিল না। জলচাষ ব্যবস্থায় পানির গুণমান বজায় রাখা, খাদ্য সরবরাহের সঠিক ভারসাম্য রাখা এবং মুক্তোর বৃদ্ধি পর্যায়ের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ করা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জপূর্ণ। বিশেষ করে মুক্তোর উপরিভাগে নকশা স্পষ্ট রাখতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এছাড়াও বাজার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। বর্তমানে বাজারে কৃত্রিম ও যান্ত্রিকভাবে তৈরি মুক্তোর আধিক্যের কারণে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত এই বিশেষ মুক্তোর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সময় লেগেছে। তবে ধীরে ধীরে এর স্বকীয়তা ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি উচ্চমূল্যের পণ্যে পরিণত হয়েছে।
এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল স্থানীয় মৎস্যচাষীদের অন্তর্ভুক্তি। তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চমূল্যের উৎপাদনে যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে তাদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ উত্তর-পূর্ব ভারতের কৃষি উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং যুবসমাজকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
