গন্ডাছড়ায় নকল জন্ম শংসাপত্র তৈরির রমরমা ব্যবসা, ধরা পড়ল ক্যামেরায় — তদন্তের নির্দেশ মহকুমা শাসকের

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১১ জুলাই || ত্রিপুরা জুড়ে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে পুশব্যাকের দাবিতে যখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি, ঠিক তখনই ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমায় ধরা পড়লো এক চাঞ্চল্যকর ও লজ্জাজনক তথ্য। মোটা অঙ্কের টাকা দিলেই আপনি হয়ে যেতে পারেন ত্রিপুরার স্থায়ী বাসিন্দা! আপনি হোন মায়ানমারের, বাংলাদেশের, কিংবা পাকিস্তানের – পরিচয় নয়, মূল্যই এখানে প্রাধান্য পাচ্ছে।
‘নিউজ আপডেট অব ত্রিপুরা ডট কম’ প্রতিনিধির ক্যামেরায় ধরা পড়ে গন্ডাছড়া মহকুমা শাসকের অফিসেই জনজাতি মুহুরীদের মাধ্যমে নকল জন্ম শংসাপত্র বিক্রির ঘটনা। বার্থ সার্টিফিকেট, পিআরটিসি, এসটি সার্টিফিকেট, এমনকি স্কুল শংসাপত্র – সবই নাকি মিলছে দালাল মুহুরীদের হাত ধরে, মাত্র কয়েক ঘণ্টায়।
চোখে জল, মুখে অসহায়তা—এভাবেই ধরা পড়েন সাধুচন্দ্রপাড়া এলাকার দীন দরিদ্র কৃষক রাজপ্রসাদ রিয়াং। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মহকুমা অফিসের বারান্দায় কাঁদছিলেন তিনি। কান্নার কারণ জানতে গেলে ধরা পড়ে পুরো কাণ্ড। পাঁচ সন্তানের জনক রাজপ্রসাদ জানান, ছেলেেদের স্কুলে ভর্তি করাতে গিয়ে মুহুরীর প্রলোভনে পড়ে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে জাল জন্ম শংসাপত্র সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। টাকা জোগাড় করতে একটি গাভি বিক্রি করতে হয়েছিল তাকে।
অভিযোগ, গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতাল থেকে ২৪/১১/২০২৩ তারিখে ইস্যু করা ওই পাঁচটি জন্ম শংসাপত্র ছিল সম্পূর্ণ জাল। আধার সেকশনে তা ধরা পড়তেই মাথায় বাজ পড়ে রাজপ্রসাদের। অপমান, হতাশা আর প্রতারণার শিকার হয়ে রাজপ্রসাদ যখন স্ত্রীর সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়েন, তখন আমাদের প্রতিনিধি এগিয়ে এসে তাকে মহকুমা শাসক চন্দ্রজয় রিয়াং-এর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেন।
ঘটনার বিস্তারিত শুনে সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেন মহকুমা শাসক। অভিযুক্ত মুহুরীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নিতে অফিসের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি রাজপ্রসাদ রিয়াং-এর ক্ষতিপূরণের দাবিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা গন্ডাছড়া মহকুমায় শোরগোল পড়ে গেছে। একদিকে যখন সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলগুলি সোচ্চার, অন্যদিকে সরকারি অফিসের ছত্রছায়ায় এহেন বেআইনি নথি তৈরি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। স্থানীয় মহলে শুরু হয়েছে ক্ষোভ, সাধারণ মানুষের আস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে ভাবনার অবকাশ।
ত্রিপুরার ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন সুশীল সমাজ।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*