ত্রিপুরায় ডুবন্ত প্রাণ, শিশু থেকে বৃদ্ধ, ধেয়ে বাড়ছে জলে ডুবে মৃত্যু, উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ, জনসচেতনতার অভাবেই কি বাড়ছে মৃত্যুহার?

গোপাল সিং, খোয়াই, ২২ সেপ্টেম্বর || ২০২৪-২৫ সালে ত্রিপুরাজুড়ে আনুমানিক ২০-২৫টি (বেসরকারিভাবে) হৃদয়বিদারক জলে ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর অন্তত ১০–১২ জন মানুষ (বেসরকারিভাবে), যাদের অধিকাংশই শিশু ও কিশোর-কিশোরী, প্রাণ হারিয়েছে জলে ডুবে। সম্প্রতি আগরতলার অরুন্ধতিনগরে তিন কিশোরী স্নানের সময় পুকুরে জলে ডুবে যায়, শান্তিরবাজারে পাঁচ বছরের মেয়ে শিশু বর্ষাজনিত জলভরা পুকুরে প্রাণ হারায়, আবার ১৬ বছরের এক কিশোরও স্নান করতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এছাড়াও নৌকা উল্টে এক নারীর মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার সাতটি পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে তুলছে। আজ এক মূক ও বধির শিশুর মৃত্যুর সংবাদে মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দুর্ঘটনার পেছনে মূল কারণ হচ্ছে নিরাপত্তার অভাব এবং সচেতনতার ঘাটতি। রাজ্যের বহু জলাশয় ও পুকুরের চারপাশে কোনো সুরক্ষাবলয় নেই, শিশুদের সাঁতার শেখানো হয় না, বর্ষার সময় জলের গভীরতা বেড়ে গেলেও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নেই। এর ফলে সামান্য অসাবধানতায়ই ঘটে যাচ্ছে প্রাণহানির ঘটনা।
এই পরিস্থিতিতে জনসচেতনতার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। শিশুদের প্রাথমিক পর্যায় থেকে সাঁতার শিক্ষা দেওয়া এবং জল নিরাপত্তা সম্পর্কে পাঠদান চালু করা জরুরি। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরের জলাশয়ের চারপাশে সতর্কীকরণ বোর্ড বসানো, সুরক্ষাবলয় গড়ে তোলা এবং মৌসুমি জল নিরাপত্তা প্রচার অভিযান চালানো এখন সময়ের দাবি।
রাজ্য সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সহায়তা করেছে, তবে শুধু ক্ষতিপূরণেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি। প্রতিটি প্রাণের মূল্য অপরিসীম, আর সেই মূল্য রক্ষার দায়িত্ব সরকার ও সমাজ উভয়েরই। ত্রিপুরার মানুষ আজ শঙ্কিত—জলে ডুবে মৃত্যু যেন নিয়মিত সংবাদে পরিণত হচ্ছে। এখনই যদি সচেতনতা না বাড়ে এবং প্রশাসনিক উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে আগামী দিনে আরও বহু পরিবার আপনজন হারানোর মর্মান্তিক শোক বহন করতে বাধ্য হবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*