শহরতলীর খালি জমিতে উচ্চহারে কর আরোপে ‘আমরা বাঙালী’ দলের তীব্র ক্ষোভ

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ ফেব্রুয়ারী || পুর নিগমের অন্তর্ভুক্ত বর্ধিত শহরতলী এলাকায় খালি জমির উপর উচ্চহারে কর আরোপের সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ‘আমরা বাঙালী’ দল। এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে দলের নেতৃত্ব পুর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানায়।
দলের বক্তব্য, বাম আমলে যৎসামান্য কর আরোপ করে শহরতলী সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকাগুলিকে আগরতলা পুর নিগমের আওতায় আনা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছর কেটে গেলেও বহু এলাকায় এখনও রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি। নাগরিক পরিষেবার মানেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অথচ সরকার পরিবর্তনের পর একাধিকবার কর বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে অভিযোগ দলের।
দলের নেতৃবৃন্দ জানান, শহরতলীর অধিকাংশ এলাকা আগে গ্রামীণ চরিত্রের ছিল। বড় আকারের বসতভিটা, বাড়ির সামনের অংশে ঘর এবং পেছনে ঝোপঝাড়, আম-কাঁঠালসহ বিভিন্ন গাছপালা ছিল সাধারণ চিত্র। বর্তমানে খালি জমির উপর স্কোয়ার ফুট অনুযায়ী কর বৃদ্ধি অনেক সাধারণ মানুষের পক্ষেই বহন করা সম্ভব নয়। যাদের দেড়-দুই খানি জমি রয়েছে, তাদের উপর কয়েক হাজার টাকার কর চাপানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া বহু এলাকায় এখনও এমন কোনও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি, যাতে খালি জমি ব্যবহার করে বাসিন্দারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন। পানীয় জলের সমস্যাও প্রকট। দলের দাবি, ঘরের উপর আরোপিত কর নিয়ে আপত্তি নেই, কিন্তু খালি জমির উপর উচ্চহারে কর আরোপ সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দলের পক্ষ থেকে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, অতিরিক্ত করের চাপে অনেকে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হতে পারেন বা গাছপালা কেটে ফেলতে পারেন, যার ফলে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। বনভূমি ধ্বংসের ফলেই লোকালয়ে বানর ও বিষধর সাপের উপদ্রব বাড়ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়াও কিছু পরিবার সাধারণ কর দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই বলেও দাবি করা হয়। পুর কর্তৃপক্ষকে সরেজমিনে তদন্ত করে কর আরোপের আহ্বান জানানো হয়। আড়ালিয়া সহ শহরতলীর কয়েকটি এলাকায় অধিকাংশ মানুষ আর্থিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন বলে দাবি দলের। একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক মিটার বসানো ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত অভিযোগও তোলা হয়।
অন্যদিকে, শহরের সৌন্দর্যায়ন ও যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে প্রয়োজনীয় বলেই স্বীকার করেছে দল। তবে উচ্ছেদের ফলে বহু ফুটপাত ব্যবসায়ীর রুজি-রোজগার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। হাওড়া মার্কেট থেকে লেইক চৌমুহনীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের জন্য দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে ‘আমরা বাঙালী’ দলের পক্ষ থেকে পুর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়—
১) শহরতলী এলাকায় খালি জমির উপর আরোপিত কর অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
২) সর্বত্র বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
৩) উচ্ছেদকৃত ফুটপাত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪) বর্ষার আগেই আগরতলা শহরের রাস্তা ও ড্রেন সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।
৫) শহরতলীর অনুন্নত এলাকায় দ্রুত রাস্তাঘাট ও ড্রেন নির্মাণের কাজ শেষ করতে হবে।
দলীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই দাবিগুলি পূরণ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে তারা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*