গোপাল সিং, খোয়াই, ২৫ ফেব্রুয়ারী || সরকারি সার বণ্টনে অনিয়ম, কালোবাজারি ও দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে খোয়াই মহকুমার সিঙ্গিছড়া গ্রামসেবক কেন্দ্র ও কৃষি বীজাগার চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল সারা ভারত কৃষক সভা-র খোয়াই মহকুমা কমিটি। বুধবার সংগঠনের ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কৃষক ও সংগঠনের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন। বেলা প্রায় ১২টা পর্যন্ত অফিস তালাবদ্ধ থাকায় ক্ষোভ আরও বাড়ে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি সহায়কের অনুপস্থিতিতেই তালাবদ্ধ দরজার সামনে প্রায় আধঘণ্টা বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।
অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করে সরকারি বরাদ্দের সার শাসকদলীয় প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। সংলগ্ন একটি বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রান্তিক কৃষকদের বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এমনকি বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী পরিবারের কৃষকদের সার দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
এসআরআই (SRI) পদ্ধতিতে চাষাবাদের ক্ষেত্রেও কৃষকদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, এই প্রকল্পে বিনামূল্যে বীজ, সার ও নগদ সহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা দেওয়া হচ্ছে না। সামান্য কিছু সার দিয়ে কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে প্রকল্পভিত্তিক চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের।
আরও অভিযোগ, ইউরিয়া ও সুপার ফসফেট সার বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে অতিরিক্ত এক টাকা করে নেওয়া হচ্ছে এবং বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকা জৈব সারও ১০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনের তরফে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
এদিনের বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন কৃষক সভার খোয়াই জেলা সম্পাদক মনোজ দাস, মহকুমা সম্পাদক কানন দত্ত, সিঙ্গিছড়া অঞ্চল সম্পাদক বাদল সবর এবং সিপিআই(এম)-এর খোয়াই অঞ্চল সম্পাদক গৌতম পাল সহ অন্যান্যরা।
বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। যদিও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
