বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ২২ মার্চ || শান্তিরবাজারে অবস্থিত মাই ছোটা স্কুলের উদ্যোগে রবিবার স্থানীয় কমিউনিটি হলে অনুষ্ঠিত হলো বিদ্যালয়ের বার্ষিক অনুষ্ঠান (এনুয়েল ডে)। রঙিন আয়োজনে ভরপুর এই অনুষ্ঠানে ক্ষুদে পড়ুয়াদের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে, যা উদ্বোধন করেন শান্তির বাজার পুরপরিষদের চেয়ারম্যান সপ্না বৈদ্য। উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল রাজীব কর, বিশিষ্ট সমাজসেবী দেবাশীষ ভৌমিক, মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের ডি সি এম সৈয়ফ উদ্দিন আহম্মেদ, সাংবাদিক সজলকান্তী বৈদ্য, বিশ্বেশ্বর মজুমদার, সমাজসেবীকা ঋনা মজুমদার সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত ভাষণে বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল রাজীব কর বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মান এবং সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের লক্ষ্যে বিদ্যালয় নিয়মিত বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছে।
অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডি সি এম সৈয়ফ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “শিশুদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো ৩ থেকে ৬ বছর বয়স। এই সময়ে তাদের যেভাবে গড়ে তোলা হয়, ভবিষ্যতে তারা সেভাবেই নিজেদের গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।” তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁর দুই কন্যা সন্তানই এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। কর্মব্যস্ততার কারণে ছোট কন্যাকে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর পর তিনি লক্ষ্য করেন, তার মধ্যে পড়াশোনা, নাচ-গানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগ্রহ ও মেধার বিকাশ ঘটেছে। তিনি বিদ্যালয়ের এই প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বক্তব্য পর্ব শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অতিথিবৃন্দরা তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পাশাপাশি ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থিত দর্শকদের মন জয় করে।
পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল রাজীব করসহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ধন্যবাদ জানান উপস্থিত সকলে।
