গোপাল সিং, খোয়াই, ২৩ মার্চ || পশ্চিম ত্রিপুরার মোহনপুর মহকুমা এলাকার তিন বাসিন্দার অনিচ্ছাকৃত সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনার পর দীর্ঘ আইনি জটিলতা শেষে অবশেষে ১৬ মাস পর দুই ভারতীয় নাগরিক দেশে ফিরলেন। সোমবার দুপুরে খোয়াইয়ের পহরমুড়া বিওপি গেইট নং-১০৪/০২, দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও ত্রিপুরা পুলিশের হাতে তুলে দেয় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
এই হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আধিকারিক সুর্যভান সিং, মোহনপুর মহকুমা অতিরিক্ত মহকুমা শাসক ধৃতিশেখর রায়, খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার এবং সিধাই থানার ওসি অজিত কান্তি চাকমা, বাল্লা বিজেবি নায়েক সুবেদার আবুল কালাম, চুনারুঘাট থানার কর্মকর্তা সজল কুমার পাল।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর। ওইদিন মোহনপুরের গোপালনগর এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন জমির পরিমাপ করতে গিয়ে ভুলবশত তিনজন ব্যক্তি বাংলাদেশ ভূখণ্ড মাধবপুর সীমান্তে প্রবেশ করেন। এরপর তাঁদের আটক করে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ধৃতদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় জানা যায়—অজিত বিশ্বাস (৪২), বাড়ি রানীরখামার, আমতলী থানা এলাকা এবং সমীর দাস (৩২), বাড়ি গোপালনগর, সিধাই থানা এলাকা। তৃতীয় ব্যক্তির পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
ধৃতদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মাধবপুর থানায় মামলা নথিভুক্ত হয় (মামলা নম্বর ১৫, তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০২৪)। তাঁদের বিরুদ্ধে ১৯৫২ সালের পাসপোর্ট সংক্রান্ত আইন ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা প্রয়োগ করা হয়। ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি আদালতে তোলা হলে তাঁদের ২৮ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে তাঁরা গত ১৬ মাস বাংলাদেশেই আটকে ছিলেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। এরই প্রেক্ষিতে ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে দুই ভারতীয় নাগরিককে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে তৃতীয় ব্যক্তির নথিপত্রে নামের অসঙ্গতি থাকায় তাঁকে এখনই হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনদের ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে পরিবারগুলি। একইসঙ্গে, তৃতীয় ব্যক্তির দ্রুত প্রত্যাবর্তনের জন্য দুই দেশের প্রশাসনিক সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ইতিবাচক বার্তাও ছড়িয়ে পড়েছে, যা সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
