সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১৪ জুলাই || উত্তপ্ত গন্ডাছড়ার পরিস্থিতি এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখনো থমথমে পরিবেশ গন্ডাছড়া মহকুমায়। রবিবার দিনভর দোকানপাট গুলো সম্পূর্ণ ছিল বন্ধ।
গত কিছুদিমের পরিস্থিতি সামলা দিতে রবিবার এস পি, মহকুমা শাসক, এম ডি সি ভূমিকানন্দ রিয়াং এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন ধলাই জেলা শাসক। এদিন গন্ডাছড়া মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে এই বৈঠক হয়। এরপর আক্রান্ত পরিবার গুলোর আশ্রয় শিবির পরিদর্শনে গিয়ে বিপন্ন মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন জেলা শাসক। এদিন মহকুমার পুলিশের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন বিপন্ন মানুষের।
উল্লেখ্য, গত রবিবার ষাট কার্ড এলাকায় আনন্দমেলা অনাকাঙ্খিত ঘটনায় মার খায় কলেজ পড়ুয়া পরমেশ্বর রিয়াং। এরপর আগরতলা জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুকে জাতিগত রং লাগিয়ে শুক্রবার রাতভোর বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে হামলা চালানো হয় বাঙালি বাড়িঘর, দোকান পাটে। চলে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট।
ঘটনার তিনদিনের মাথায় রবিবার মহকুমায় পৌঁছান জেলা শাসক। মহকুমা শাসক অফিসের কনফারেন্স হলে প্রায় দুই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন জেলা শাসক। সঙ্গে ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার। ছিলেন মহকুমা শাসক, জনপ্রতিনিধি এম ডি সি ভূমিকানন্দ রিয়াং, ছিলেন ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি। বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়।
সভা শেষে জেলা শাসক সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবারের ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন খুব তাড়াতাড়ি তাদের ব্যাংক একাউন্টে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন, ৩২ কার্ড সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপনের দাবি উঠেছে। এখন অস্থায়ী ক্যাম্প রয়েছে।
এদিন জেলা শাসক ষাট কার্ড এলাকায় গন্ডাছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের কমিউনিটি হলে অস্থায়ী শরনার্থী শিবির পরিদর্শনে যান। সেখানে শিবিরে থাকা মানুষজন বিশেষ করে মহিলাদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন জেলা শাসক। মানুষ স্পষ্টতই ক্ষোভ উগরে দেন পুলিশের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে কোন রকমে ক্ষোভ সামাল দেন জেলা শাসক।
তবে এই দিনের সভায় স্থানীয় বিধায়ক নন্দিতা দেববর্মা রিয়াং বা প্রাক্তন বিধায়ক ললিত ত্রিপুরা এমনকি প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা কাউকেই দেখা গেল না।
