সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৬ জানুয়ারি || তিন দিনের সফল ত্রিপুরা সফর শেষ করলেন কেন্দ্রীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন ও যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। সফরের শেষ পর্যায়ে শনিবার রাতে তিনি গন্ডাছড়ার নারিকেল কুঞ্জে পৌঁছান। রবিবার সকালে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর উপস্থিতিতে মাতাবাড়ি টুরিজম সার্কিট প্রকল্পের শিলান্যাস করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
নারিকেল কুঞ্জে আয়োজিত শিলান্যাস অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া তাঁর তিন দিনের সফরে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্যে ৪৫০ কোটি টাকার পর্যটন সার্কিট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মাতাবাড়ি, উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ, নীরমহল, সিপাহিজলা, ছবিমুড়া-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষভাবে ডুম্বুর লেকের ৪৮টি দ্বীপ এবং নারিকেল কুঞ্জকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সফরের শুরুতেই ২২০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়, যার আওতায় রাজ্যের ৪৫০টি গ্রামে ৭৫০টি সোলার মাইক্রো গ্রিড স্থাপন এবং সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।
এছাড়াও তিনি জানান, আগরতলায় ২০০ কোটি টাকার ডেন্টাল কলেজ এবং ১৯২ কোটি টাকার মাতৃ ও শিশু হাসপাতাল (Maternal & Child Health Hospital)-এর নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, যা ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উত্তর ফুলবাড়িতে ৮০ কোটি টাকার আগর প্রকল্পের উদ্বোধনও এই সফরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
নারিকেল কুঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন,
“ত্রিপুরাকে আমরা একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।”
পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এই বৃহৎ প্রকল্পগুলির জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
এই শিলান্যাস কর্মসূচির মধ্য দিয়েই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার তিন দিনের ত্রিপুরা সফর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। তবে উন্নয়নের এই উজ্জ্বল চিত্রের আড়ালে উঠে এসেছে এক কঠিন বাস্তবতা। অভিযোগ উঠেছে, গন্ডাছড়া মহকুমার স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরেই চরম অবহেলার শিকার।
স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতি সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের কোনও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এতে সাংবাদিক মহলে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—প্রশাসনের চরম অসহযোগিতা ও উদাসীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার অভাব, আক্রমণের শিকার হলে ন্যায়বিচার না পাওয়া এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও সাংবাদিকদের গুরুত্ব না থাকা।
উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি এই অবহেলার বিষয়টি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে গন্ডাছড়ার সাংবাদিক মহলে।
