গোপাল সিং, খোয়াই, ২৭ জানুয়ারি || থানা যখন ঘর-বাড়ী, সহকর্মীরা পরিবার। দেশ ও সমাজের জন্য রাত-দিন এক করা পুলিশ আধিকারিকের জন্মদিন পালন করে নজীর গড়ল খোয়াইয়ের পুলিশ প্রশাসন। খোয়াই থানা, মহিলা থানা, চাপাহাওড় ও বাইজালবাড়ী থানায় ২৬শে জানুয়ারীর রাতে একটু সময় ব্যতীত করলেন খোয়াই মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডি কুদিয়ারাসু জন্মদিন পালনের জন্য। ২৬শে জানুয়ারীর মতো একটি পবিত্র দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অন্ধ্রপ্রদেশে যার পরিবার, স্ত্রী ও সন্তানরা পারেনি, কিন্তু সহকর্মীরা সেই আবেগে একটু হলেও স্বস্তি দিতে চেষ্টা করেছেন। খোয়াই মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, যিনি মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত বর্ডার পেট্রোলিংয়ে নিজে উপস্থিত থেকে জনগণের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করেছেন এবং তা ধারাবাহিকভাবে করে চলছেন। খোয়াইয়ে আজকের দিনটি তিনি স্মরণ করে রাখবেন চিরকাল। ত্রিপুরা রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনও এই ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকলো।
সবার যখন ছুটি, পুলিশের তখনও নেই অবসর। বারো মাসের তেরো পার্বণে সাধারণ মানুষ যখন পরিবার-পরিজন নিয়ে সামাজিকতার বন্ধনে আবদ্ধ, ঠিক তখনই পুলিশ নিজের পরিবার থেকে দূরে থেকে জনগণের নিরাপত্তায় নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। পুলিশের জীবনে সামাজিকতা নয়, দায়িত্বই প্রধান—আর সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে থানাই হয়ে ওঠে তাদের ঘরবাড়ি, সহকর্মীরাই হয়ে ওঠেন পরিবার।
ঠিক এমনই এক বিরল ও মানবিক ছবি ধরা পড়ল খোয়াইয়ে, যা এর আগে সাধারণ মানুষের চোখে খুব কমই এসেছে। খোয়াই মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডি কুদিয়ারাসু—যিনি সুদূর অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে পরিবার ছেড়ে এসে খোয়াইয়ে দায়িত্ব পালন করছেন—২৬শে জানুয়ারির টানা দায়িত্বের ধকল শেষে গভীর রাতে পেলেন এক ব্যতিক্রমী সারপ্রাইজ। খোয়াই থানা, মহিলা থানা ও বাইজালবাড়ী থানার পুলিশ আধিকারিক ও সাধারণ পুলিশ কর্মীরা সম্মিলিতভাবে কর্মস্থলেই আয়োজন করেন তাঁর জন্মদিনের।
দেশ ও সমাজের সেবায় নিয়োজিত পুলিশের এই ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারিবারিক মিলনমেলা খোয়াই পুলিশ প্রশাসনের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এক স্মরণীয় অধ্যায়। অল্প কিছু সময় নিজেদের জন্য ব্যয় করেই পুলিশ প্রশাসন যেন বার্তা দিল—খোয়াই আজ অনেকটাই অপরাধমুক্ত, জনগণ আগের তুলনায় অনেক বেশি নিশ্চিন্ত।
একসময় খোয়াই নেশার স্বর্গরাজ্যে পরিণত হওয়ার আশঙ্কায় ছিল—এমনটাই মত সাধারণ মানুষের। কিন্তু খোয়াই জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, খোয়াই থানা, মহিলা থানা, বাইজালবাড়ী থানা সহ জেলার সমস্ত থানার ওসিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ধারাবাহিক চুরির ঘটনাতেও কার্যত ফুলস্টপ টানতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। যদিও কাজ এখনও শেষ হয়নি—এ কথাও অকপটে স্বীকার করছেন সচেতন নাগরিকেরা।
ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে অস্থিরতার আবহে খোয়াই জেলার প্রায় সবকটি থানার পুলিশ আধিকারিক বিএসএফের সঙ্গে যৌথভাবে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সীমান্ত টহল চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারে। ২৩শে ও ২৬শে জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে পুরো খোয়াইকে কার্যত নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
এই টানটান দায়িত্বের মাঝেই সামান্য সামাজিকতা—তা নিশ্চয়ই জনগণ মেনে নেবেন, বরং সাধুবাদই দেবেন। খোয়াইয়ের এই ঐক্যবদ্ধ ও মানবিক পুলিশ প্রশাসন তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিতে পেরেছে—দায়িত্ব, শৃঙ্খলা আর পারস্পরিক বন্ধনই পারে একটি জনপদকে সত্যিকারের নিরাপদ করে তুলতে।
