আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।। তারা বেড়াতে এসেছিলেন নেপালে। কিন্তু ফিরে গেলেন একা। নেপালের ভূমিকম্পে বন্ধুকে হারিয়েছেন ইংল্যান্ডের তরুণী ইভ। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবার নেপাল ছাড়তে হচ্ছে তাকে। কিন্তু যাওয়ার আগে নেপালের বিভিন্ন দেয়ালে সেঁটে দিয়ে গেলেন বন্ধুর ছবি-সম্বলিত পোস্টার। যদি খোঁজ মেলে সে আশায়।
টাইটানিক ছবির এই দৃশ্যের কথা সবার মনে আছে। সজল চোখে প্রিয় বন্ধু জ্যাকের হাত ছেড়ে দেয় রোজ। নিথর দেহ তলিয়ে যায় অাটলান্টিক মহাসাগরে। বন্ধু বিচ্ছেদের এমনই ছবি এখন হিমালয়ের কোলের ছোট্ট দেশ নেপালেও।
দু’চোখে এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন নিয়ে বন্ধুর সঙ্গে নেপালে এসেছিলেন ইংল্যান্ডের বাসিন্দা ইভ। কিন্তু ভূমিকম্প সব স্বপ্ন ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে বেসক্যাম্প থেকে হারিয়ে যায় বন্ধু। তারপর থেকে বন্ধুর জন্য মরিয়া খোঁজ ইভের।
কিন্তু ১০ দিন কেটে গেলেও কোনো খোঁজ নেই। ফুরিয়ে আসছে ভিসার মেয়াদ। এ পরিস্থিতিতে শেষপর্যন্ত মরিয়া তরুণী নিজের বন্ধুর ছবি দেয়া পোস্টার সেঁটে দিয়ে যায় কাঠমাণ্ডুর নানা দেয়ালে।
যদি কেউ দেখতে পায়, যদি কেউ খোঁজ পায়, যদি কেউ বন্ধুর খোঁজ দেয় সে আশায়। বুকে কান্না চেপে সে আশায় নেপাল ছাড়েন ইভ। তার মতো স্বজন হারানোর যন্ত্রণা এখন সঙ্গী কাঠমান্ডুর বহু স্থানীয় বাসিন্দারও।
চার-পাঁচদিন পরও নেপালের ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েকজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। সেরকমই আরো কয়েকটা মিরাকেলের অপেক্ষায় স্বজনহারা এই মানুষগুলো।
আশায় রয়েছেন ইভও। তাই হাল ছাড়তে নারাজ এই ব্রিটিশ তরুণী। যদি হঠাৎ কেউ পেছন থেকে ডেকে বলে ওঠে, ‘কোথায় ছিলে বন্ধু এতদিন’?
